জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
রাজধানীর উত্তরা থেকে ভোর ছয়টায় মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য এসেছেন আসলাম উদ্দিন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি তেল পাননি। পরে জানতে পারেন তাকেসহ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের দুপুরে পর তেল দেওয়া হবে।
শুধু আসলাম নন, সেই মুহূর্তে তেলের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন শতাধিক ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রাইভেটকার এবং কাভার্ডভ্যান চালক। তারাও অপেক্ষায় তেলের জন্য।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরনি এলাকায় ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে কথা হয় আসলামের সঙ্গে। তার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন সবেমাত্র একটি তেলের লরি পাম্পে এসে প্রবেশ করেছে। তারা তেল আনলোডের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন।
এই পাম্পে তেল নিতে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় আছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা। তবে কারও মাঝে তেমন কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়নি।
পরে সেখান থেকে আসাদগেটের বিপরীত পাশে থাকা তালুকদার পাম্পে গিয়ে একই অবস্থা দেখা গেল। সেখানেও একটি তেলের গাড়ি সবেমাত্র প্রবেশ করেছে। নিরাপত্তা কর্মীরা জানালেন, তারা দুপুর ২টার পর থেকে তেল দেওয়া শুরু করবেন।

সেখানে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালকদের সারি কম। তবে প্রাইভেটকার চালকদের সারি দীর্ঘ, যা ঠেকেছে ৩৬ জুলাই জাদুঘরের সামনের পূর্ব দিকের মোড় পর্যন্ত।
আবার সেখান থেকে সরাসরি হাইকোর্টের উল্টো পাশের সড়কের কোণে থাকা রমনা ফিলিং স্টেশনে এসে কোনো বাইকার বা গাড়ি চালকের লাইন পাওয়া গেল না। পাম্প পুরোপুরি ফাঁকা। সেখানে থাকা কয়েকজন যুবক জানালেন, তাদের তেল আনতে গেছে। কয়টার দিকে আসবে তারা কেউ জানে না। তবে তেল তিনটার পর হয়তো দিতে পারবেন।
এই তিন পাম্প ছাড়াও অন্যান্য পাম্পগুলোতে খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল, আজ সকাল থেকে দুটি পাম্প ছাড়া কোনো পাম্পে অকটেন ও ডিজেল ঢোকেনি। ফলে তারা এসব তেলের কোনোটাই সরবরাহ করতে পারছেন না।
তারা আরও জানিয়েছেন, গত রাত থেকে লরি ভর্তি করে তেল আনার জন্য ডিপোগুলোতে তারা লাইন দিয়েছেন। কেউ সকালের পর পাচ্ছেন আবার কেউ দুপুরের পর সেই তেল পাবেন। তারপর তা পাম্পে এনে বাইকার ও প্রাইভেটকার চালকদের দিতে পারবেন। তার আগে নয়।

তবে আজ বন্ধের দিন হওয়ায় এই তিন পাম্পের মধ্যে ট্রাস্ট ছাড়া বাকি দুটির একটিতে সামান্য লাইন আরেকটিতে কোনো লাইনই পাওয়া যায়নি। তবে ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেল, শাহবাগের সাকুরা বারের পাশে থাকা ফিলিং স্টেশনটিতে। সেখানে সমানতালে তেল নিচ্ছেন বাইকার ও প্রাইভেটকার চালকরা। জানা গেল, ফিলিং স্টেশনটিতে শুরু থেকে এ নিয়ম মানা হচ্ছে। তারা সকাল থেকে সাতটা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত তেল দিয়ে বন্ধ করে দেন।
তবে কিছু কিছু তেল পাম্পে আবার কোন কোন সময় তেল সরবরাহ করা হবে তার নোটিশ বড় করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এমআইকে/জেবি