আব্দুল হাকিম
০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
* ভাড়া ফাঁকির সঙ্গে সিট দখলের প্রতিযোগিতা
* মাঝপথের যাত্রীরা দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন
* সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ
* সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা
* সচেতনতা ও কঠোরতার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
রাজধানীর মেট্রোরেলে ‘উল্টো যাত্রা’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সচিবালয়সহ মাঝপথের কিছু যাত্রী মতিঝিলগামী ট্রেনে উঠে শেষ স্টেশনে না নেমে ট্রেন ঘুরে উত্তরার দিকে ফিরে একই সিটে বসে থাকছেন। এতে সচিবালয় থেকে মতিঝিল ঘুরে সচিবালয় পর্যন্ত পথের ভাড়া হিসাব হয় না। এছাড়া আসন খালি না পেয়ে মাঝপথের স্টেশনগুলোতে ওঠা যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে। এ নিয়ে নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিষয়টি জেনেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, অবগত থাকার পরও কেন কার্যকর সমাধান বের করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
নিয়মিত যাত্রীদের একটি অংশ বলছেন, সচিবালয় থেকে উত্তরা যেতে ইচ্ছুক কিছু যাত্রী সরাসরি উত্তরামুখী ট্রেনে না উঠে মতিঝিলগামী ট্রেনে ওঠেন। শেষ স্টেশন মতিঝিলে পৌঁছে তারা নামেন না; ট্রেন ঘুরে উত্তরার দিকে যাত্রা শুরু করলে একই সিটে বসে ফিরে আসেন। এতে মাঝপথের স্টেশনগুলোতে ওঠা অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে। এটি কার্যত সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগানো। তাদের দাবি, ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে দূরত্বের ভিত্তিতে। কিন্তু কেবল সিট নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পথ ঘুরে এসে বসে থাকা নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে এবং অন্যদের অসুবিধা তৈরি করে।
কীভাবে হচ্ছে ‘উল্টো যাত্রা’
যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সচিবালয় স্টেশনে উত্তরা অভিমুখে ট্রেন এলে অনেক সময় সিট পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় কিছু যাত্রী মতিঝিল লাইনের ট্রেনে উঠে শেষ প্রান্তে যান। সেখানে নামার পরিবর্তে ট্রেনের ভেতরেই অপেক্ষা করেন। ট্রেনটি বিপরীতমুখে যাত্রা শুরু করলে তারা বসা অবস্থাতেই উত্তরা অভিমুখে ফিরতে থাকেন। ফলে সচিবালয়, শাহবাগ বা পরবর্তী স্টেশনগুলোতে ওঠা সাধারণ যাত্রীরা সিটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ব্যস্ত সময়ে দাঁড়িয়ে যাত্রা করা ছাড়া তাদের সামনে আর বিকল্প থাকে না।
একাধিক যাত্রী বলেন, শেষ স্টেশনে যাত্রীদের নামা বাধ্যতামূলক না থাকায় এবং ট্রেন দ্রুত ঘুরে যাওয়ায় এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদি শেষ গন্তব্যে পৌঁছে যাত্রীদের নামা নিশ্চিত করা হতো, তাহলে এমন প্রবণতা কমে আসত।
ভাড়া কাঠামো ও নৈতিকতার প্রশ্ন
মেট্রোরেলের ভাড়া কাঠামো দূরত্বভিত্তিক। অর্থাৎ যে যাত্রী যত দূরত্ব অতিক্রম করেন, সে অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করেন। সমালোচকদের মতে, কেউ যদি সচিবালয় থেকে উত্তরা যেতে চান, তবে সরাসরি উত্তরা অভিমুখী ট্রেনে ওঠাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেবল সিট পাওয়ার জন্য মতিঝিল পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসা ভাড়ার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
এভাবে চলাচলে কিছু পথের ভাড়াও হিসাবে যোগ হয় না। যেমন: কোনো যাত্রী সচিবালয় থেকে মতিঝিলগামী ট্রেনে উঠেছেন। তিনি মতিঝিল ঘুরে সচিবালয় হয়ে উত্তরায় যাচ্ছেন। তার ভাড়া হিসাব হবে সচিবালয় থেকে উত্তরা। এর আগে সচিবালয় থেকে মতিঝিল ঘুরে সচিবালয়ে আসার খরচ তার হিসাবে যোগ হবে না।
সাধারণ যাত্রীদের দাবি, মতিঝিল ঘুরে সিট দখলের প্রবণতা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, ব্যস্ত সময়ে এমন কৌশলের কারণে প্রকৃত যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। যাত্রীদের ভাষ্য, গণপরিবহনের মূল উদ্দেশ্য সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ব্যবহার করলে সামগ্রিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিয়মিত যাত্রী আব্দুল গনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, মতিঝিলের কয়েক স্টেশন আগে থেকেই সিট দখল করে উত্তরার দিকে যাওয়ার অনৈতিক কাজ বন্ধ হোক। সবাই এগিয়ে আসুন। প্রচুর মানুষ উত্তরার দিকে যায়। তারা সচিবালয় থেকে উঠলে দাঁড়িয়ে যেতে হবে ভেবে আগে মতিঝিলগামী লাইনে উঠে পড়ে। কিন্তু মতিঝিল গিয়ে তারা নামে না, ট্রেনের সাথেই ঘুরে আসে। এতে কী লাভ হয়? সচিবালয় থেকে উঠলে যে দাঁড়িয়ে যেতে হতো, সেটার বদলে তারা মতিঝিল থেকে বসে আসে। এটা স্রেফ সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগানো। শেষ গন্তব্যে গিয়ে আপনাকে নেমে যেতে হবে। আপনি বসে থাকা উচিত না।

আব্দুল গনি বলেন, ট্রেন যদি মতিঝিল থেকে ঘুরে এসে সঙ্গে সঙ্গে না যেত, তাহলে তাদের যুক্তি কোথায় থাকত? যদি কঠোরভাবে মতিঝিলে নেমে যেতে বলা হতো, না মানলে জরিমানা করা হতো, তাহলে কেউ এমন করত না। মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে কত দূরত্ব অতিক্রম করছেন তার ভিত্তিতে, এসির ভেতরে কতক্ষণ বসে আছেন তার ভিত্তিতে নয়। এটা সবাই বোঝেন, তবু গায়ের জোরে যুক্তি দেওয়া হয়। শুভবুদ্ধির উদয় হোক, সবাই আওয়াজ তুলুন।
একই বিষয়ে সাইফুল্লাহ কাওসার নামে আরেক যাত্রী বলেন, আমি মনে করি গণপরিবহনে ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কেউ যদি কৌশল করে আগে গিয়ে সিট ধরে রাখেন, তাহলে তা অন্য যাত্রীদের প্রতি অন্যায় হয়ে যায়। মেট্রোরেল সবার জন্য, তাই এর ব্যবহারেও সমতা থাকা দরকার। নিয়ম পরিষ্কারভাবে প্রয়োগ করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। শেষ স্টেশনে যাত্রীদের নামা ও পুনরায় ওঠার বিষয়টি আরও সুসংগঠিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে তদারকি বাড়ানো যেতে পারে। যাত্রীরা সচেতন হলে এবং কর্তৃপক্ষ কঠোর থাকলে এই ধরনের সমস্যা সহজেই কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন:
স্বস্তির যাত্রার ‘ভোগান্তি’ কমাতে কী করছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ?
মেট্রোরেলের স্টেশন ঘিরে বসছে দোকান, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ
এখন থেকে স্টেশনে ঢুকে মেট্রোতে না চড়লেও গুণতে হবে ভাড়া
পাল্টা যুক্তিও আছে
তবে সবাই এ ঘটনাকে একইভাবে দেখছেন না। রুহুল আলম তারিক নামের এক যাত্রী বলেন, যাত্রী যদি অতিরিক্ত দূরত্বের জন্য ভাড়া পরিশোধ করেন, তাহলে সেটিকে পুরোপুরি অবৈধ বলা কঠিন। তার মতে, অনেক সময় অভিযোগকারীরা নিজেদের সুবিধার জায়গা থেকে বিষয়টি দেখছেন। ভবিষ্যতে নতুন স্টেশন চালু হলে একই কৌশল ব্যবহার করলে সেটিও কি অনৈতিক বলা হবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কেউ বলছেন, ভাড়া দিলেই সব ন্যায্য হয়ে যায় না; আবার কেউ মনে করছেন, নির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে যাত্রীরা সুযোগ নিতেই পারেন।
কর্তৃপক্ষ যা বলছেন
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মতিঝিল ঘুরে সিট দখলের এই প্রবণতা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়েছে এবং কয়েকজন যাত্রীকে সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে। তবুও একটি অংশ নিয়ম ভেঙে একই কৌশল অবলম্বন করছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, শেষ স্টেশনে যাত্রীদের নামা নিশ্চিত করা এবং নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে তারা কাজ করছেন। ব্যস্ত সময়ে প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে তদারকি জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য অন্যদের ভোগান্তি তৈরি না করে সবাই যেন নিয়ম মেনে যাতায়াত করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। আগেও একাধিকবার এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কার্যকর সমাধান বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি কাউকে অসম্মান করাও সম্ভব নয়। ফলে নিয়ম ভঙ্গ হলেও তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সচেতনতা দুটোই প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (অপারেশন এন্ড মেইন্টেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত। এমন যখন হচ্ছে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা রক্ষা করা সব সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো ব্যবস্থায় ফাঁক থাকলে যাত্রীরা সেটি ব্যবহার করবেন, এটাই বাস্তবতা। তবে এতে যদি অন্য যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে, তাহলে কর্তৃপক্ষকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের মতে, শেষ স্টেশনে পৌঁছে সব যাত্রীকে নামিয়ে পুনরায় বোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে কিংবা নজরদারি জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
উত্তরা অভিমুখে অফিস শেষে যাত্রীচাপ বেশি থাকে। সচিবালয়সহ আশপাশের এলাকায় সরকারি-বেসরকারি দফতর থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। এ সময় সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যাত্রীরা বলছেন, তারা নিয়ম মেনে ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন। কিন্তু কৌশল করে আগে থেকে সিট দখল করে রাখলে সেটি অন্যদের প্রতি অবিচার। অনেকে মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে এবং শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান ঢাকা মেইলকে বলেন, মেট্রোরেল মূলত কমিউটারদের জন্য তৈরি একটি সময়নির্ভর ব্যবস্থা। যারা জরুরি কাজে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তারাই সাধারণত এটি ব্যবহার করেন। তাই মেট্রোর দর্শন হওয়া উচিত সময়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। এখানে বসে যাওয়া বা দাঁড়িয়ে যাওয়া মুখ্য বিষয় নয়। এটি দূরপাল্লার পরিবহন নয়; স্বল্প দূরত্বে দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোই এর প্রধান লক্ষ্য।
হাদিউজ্জামান বলেন, কিছু যাত্রী শেষ স্টেশনে নেমে আবার ট্রেনে উঠে বসে আসার চেষ্টা করেন। এটি মূলত একটি অপ্রয়োজনীয় অভ্যাস, যা মেট্রোর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে যায় না। বিদেশি পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সাধারণত এমন সংস্কৃতি দেখা যায় না, বলতে গেলে তারা এমন কিছু চিন্তাও করেন না। কারণ সেখানে সময়নিষ্ঠতাই প্রধান বিবেচনা। মেট্রোর ক্ষেত্রে যাত্রীদের উচিত সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বসে আসা সুবিধা হলেও এটি পরিবহনের মূল দর্শন নয়।
ড. হাদিউজ্জামান আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ রোধে মেট্রো পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বপ্রাপ্তরা এবং শেষ স্টেশনে দেওয়া ঘোষণা ব্যবস্থাই নিয়ম মানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনে এমআরটি নীতিমালা সংশোধন করে স্পষ্ট বিধান যুক্ত করতে হবে এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে। ছোট অনিয়মকে উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে তা বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। তাই শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এএইচ/ক.ম