মো. মেহেদী হাসান হাসিব
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশন ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পাবেন রাজনৈতিক দলের প্রধানরা।
ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা শেষে ভোটার উদ্দেশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পাবেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো। এক্ষেত্রে আমরা বিটিভিতে একটি চিঠি দেব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তবে কোন দল কত সময় পাবে তা নির্ধারণ হবে দলের গুরুত্ব অনুযায়ী।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা দলীয় প্রধানদের ভাষণ প্রচার করতে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেব। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিটিভি নেবে।
কোনো দলকে কত সময় দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোনো সময় নির্ধারণ করে দেবে না। রাজনৈতিক যেসব দল আবেদন করবে আমরা তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিটিভিকে বলব। বিটিভি ব্যবস্থা নেবে। এর জন্য কিছু নিয়মও আমরা নির্ধারণ করেছি। তবে তা প্রচারণার শেষ হওয়ার আগেই হবে।
বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দলীয় প্রধানের ভাষণের সম্প্রচারের বিষয়ে সব কিছু নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবেন। এখনও চূড়ান্ত নির্দেশনা পাই নি। চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘বিটিভি মহাপরিচালক জানান, অর্ধশত দল ভোটে অংশ নিলেও প্রধান কয়েকটি দল বিশেষ করে যাদের প্রার্থী বেশি তাদর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তা না হলে ভাষণ প্রচারের ব্যবস্থা কঠিন হয়ে যাবে। ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। ইসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী এ কাজটা করা হবে। চূড়ান্ত হলেই ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ বিষয়ে ঢাকা মেইলেকে বলেন, আমাদের এরকম প্রস্তাব ছিলো যে সব দলের নেতার ভাষণ দেবেন, যেখানে দর্শক সাংবাদিক সবাই করবেন। আমরা ইসির এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানায়। বড় দলগুলো জন্য ৩০ মিনিট সময় রাখা যেতে পারে বলেও তিনি জানান।
সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা ২ হাজারের বেশি। ৩০০ আসনে নিবন্ধিত ৫১ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৪০ (চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পরে আদালতের আদেশ প্রার্থীতা পাওয়া দলীয় প্রার্থী এতে নাই)। স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭০ (আদালতের আদেশ প্রার্থীতা ফিরে পাওয়া ২১ প্রার্থী যুক্ত করার পর, আরও কিছু এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে)।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ৩ হাজার ৪১৭ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ঘোষিত সময় অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন ২ হাজার ৫৮০ জন।
মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৫৫ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ৬৪৫ জন আবেদন করেন, এর মধ্যে ৪৩৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। তবে পাঁচজন বৈধ প্রার্থী পরবর্তী সময়ে বাদ পড়েন। আদালতের আদেশ এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মতো প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন।
সবশেষ ২০ জানুয়ারির মধ্যে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দলকে ভোটে পাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। অংশ নেওয়া কোন দলে প্রধানকে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। জাতীয় পার্টির প্রধান দলীয় প্রধান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজ। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মওলানা মামুনুল হক। আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রধান কমরেড মাসুদ রানা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম. এ. মতিন। খেলাফত মজলিসের মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ। জনতার দলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামীম কামাল।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) সভাপতি আবু লায়েস মুন্না। বাংলাদেশ কংগ্রেস সভাপতি কাজী রেজাউল হোসেন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হলেন জোনায়েদ সাকি। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। আমজনতার দল প্রধান মিয়া মশিউজ্জামান। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি বেগম জুবেদা কাদের চৌধুরী।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) সভাপতি মো. আবু হানিফ হৃদয়।
নাগরিক ঐক্য সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ নুরুল আম্বিয়া। জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল। বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান সাইফুল হক।
জাকের পার্টির প্রধান মোস্তফা আমীর ফয়সল। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আকমল হোসেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান হলেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ প্রধান হলেন ইমাম আবু হায়াত।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি। গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আল্লামা ছরওয়ার কামাল আজিজী। বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টির (বিইপি) চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি চেয়ারম্যান অ্যাড. এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান। ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এ. এন. এম সিরাজুল ইসলাম।
গণফোরামের বর্তমান প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টু। ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু।
নবম সংসদ নির্বাচনসহ আগের নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রধানদের ভাষণ সম্প্রচার হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার শেষের দিন (২৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় শেখ হাসিনা ও সোয়া ৯টা খালেদা জিয়া) আধঘণ্টারও বেশি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান দুই দলের নেতা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ভোটার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এমএইচএইচ/এমআই