Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

মাছ-মাংসের মতো হিসেব করে খেতে হবে ফলও

লাইফস্টাইল ডেস্ক

১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

চোখ বন্ধ করে ফল খাওয়ার দিন শেষ! কেননা, মাছ-মাংসের মতো ফলও হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, প্রাণীজ খাবারের মতো ফলও খেতে হবে নিয়ম মেনে, পরিমিত পরিমাণে। আপনি যদি ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ ও ইরিটেবল বাওএল সিনড্রম (আইবিএস) আইবিএসের রোগী হোন তবে এখনই সতর্ক হোন।

গ্রিক ফিজিশিয়ান হিপোক্রেটসের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে  ‘খাবারকে আপনার ওষুধ বানান, আর ওষুধকে খাবার।’ তার এই উক্তিটি আজও ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এই উক্তির সঙ্গে আধুনিক মেডিসিন বিজ্ঞানও একমত। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, একই ফল ভিন্ন ব্যক্তির শরীরে একইভাবে কাজ করে না।

Health-Benefits-of-Seasonal-Fruits
ঋতুভেদে নানা স্বাদ ও রঙের ফল পাই আমরা।

ঋতুভেদে নানা স্বাদ ও রঙের ফল পাই আমরা। বিশেষ করে গ্রীষ্মে, আম, জাম, কাঁঠাল, তরমুজ, বাঙ্গি ও আঙুরের মতো বাহারি ফলে ভরে উঠে আমাদের ঝুড়ি। এসব ফল সতেজ ও মিষ্টি এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর ও শরীরের জন্য উপাদেয়। তবে কোটি কোটি ডায়াবেটিস, কিডনি ও আইবিএস-এর রোগীদের জন্য এসব ফল খাওয়া বাগান থেকে সবেচেয়ে পাকা ও মিষ্টি ফল পেরে খাওয়ার মতো সহজ না।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৯ কোটি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি দশজনের মধ্যে একজন ভুগছেন ক্রোনিক কিডনি ডিজিজে (সিকেডি)। যেখানে আইবিএস রয়েছে বিশ্বের ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষের। এই সংখ্যা থেকে এটি স্পষ্ট, ফল কীভাবে একেক মানুষের শরীরে ভিন্নভাবে কাজ করছে সেটি বোঝা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন: ফল না ফলের রস— কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

তবে ভয়ের কিছু নেই। চিকিৎসকরা আপনার প্লেট থেকে ফলও সরিয়ে ফেলতে বলছেন না। কী ধরনের ফল আপনি খাচ্ছেন, কোন সময়ে কতটুকু খাচ্ছেন, কোন ফলের সঙ্গে কোন ফল মিশিয়ে খাচ্ছেন সে বিষয়ে একটু খেয়াল রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ডায়াবেটিস রোগী ও মিষ্টিজাতীয় ফল

যেসব ফলের স্বাদ মিষ্টি সেগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। এই ফলগুলো অস্বাস্থ্যকর নয়। তবে পরিমিত পরিমাণে না খেলে সেগুলো আপনার সুগার ও গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

360_F_1877296455_GrSPkiolOirvkIsTUfiqLa80IvHiu3Js
পরিমিত ফল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ভারতের চেন্নাইয়ের ভিএস হাসপাতালের কনসালটেন্ট অ্যান্ডোসিন সার্জন ড. কে থালাভাই সুন্দারাম বলেছেন, ‘ডায়াবেটিসের রোগী হলে মিষ্টিজাতীয় ফল খাওয়ার বিষয়ে আপনাকে সতর্ক হতে হবে। যেমন- আম, কাঠাল ও আঙুর। এসব ফল বেশি বেশি খেলে আপনার রক্তের সুগার লেবেল দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে আপনি যখন এগুলো দিয়ে জুস বানিয়ে খান। এসব ফল খাওয়ার উত্তম উপায় হলো চিবিয়ে খাওয়া এবং প্রোটিন অথবা স্বাস্থ্যকর চর্বি আছে এমন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া।’

আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে ফলের স্বাদ কি বদলে যায়? 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফলের জুসকে বেশি ক্ষতিকর বলার কারণ এটি ফলের ফাইবার নষ্ট করে ফেলে। আর ফলের জুস সহজেই হজম হওয়ায় চিনির কণাও সহজেই আমাদের রক্তে মিশে যায়।

কিডনি রোগ: স্বাস্থ্যকর ফলে গোপন ঝুঁকি

ফলের মধ্যে কলাকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে ডাবের পানির বিকল্প নেই। ভিটামিন-সি ভরপুর রয়েছে কমলা। তবে স্বাস্থ্যকর এসব ফল খাওয়ার বিষয়ে কিডনি সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের সতর্ক হওয়া উচিত।

istockphoto-1399528638-612x612
ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া ফল খাওয়া বন্ধ করা উচিত নয়।

সাধারণত কিডনি আমাদের শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম ছেঁকে বের করে দেয়।  তবে কিডনিতে সমস্যা দেখে দিলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। যা হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক উঠানামায় প্রভাব ফেলে।

ড. সুন্দারাম বলেছেন, ‘কিডনি রোগীরা ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করায় তাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। কলা, কমলা, খরমুজ, ডাবের পানি ও শুকনো ফলে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। কিডনিতে সমস্যা থাকলে আপনার রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে পেশি দুর্বল হয়ে পড়বে। এমনকি আপনার হৃদযন্ত্রও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’

আরও পড়ুন: ভরপেট খাওয়ার পর ফল খাওয়া কি ভালো?

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া কিডনি রোগীদের পটাসিয়াম জাতীয় ফল খাওয়া বন্ধ করা উচিত নয়। কেননা, রোগীভেদে ডায়েট চার্ট ভিন্ন হতে পারে।’

images_(1)
সব ধরনের ফল পরিপাকতন্ত্রে গোলামাল বাঁধায় না।

আইবিএস: সমস্যাটা আসলে ফলে নয়

একই ফল আইবিস রোগীদের শরীরের ভিন্ন প্রভাব ফেলে। দেখা গেলো, একটি ফল খেয়ে একদিন বেশ স্বাভাবিকই কাটলো। তবে একই ফল খাওয়ার পরে অপরদিন হয়তো খুবই সমস্যা দেখা দিলো। এর কারণ রক্তের সুগার না। এটি মূলত এফওডিএমএপি নামে পরিচিত ফার্মেন্টেবল কার্বোহাইড্রেডের কারণে হয়। এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অ্যাবডমিনাল পেইন ও মলত্যাগে সমস্যা দেখা দেয় বলে জানান ড. সুন্দারাম।

আরও পড়ুন: পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ফল কোনটি?

তিনি আরও বলেন, আপেল, তরমুজ, চেরি, নাশপাতি ও পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেড থাকে। এসব ফল আইবিএস রোগীদের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে বাড়ে।

images
স্বাস্থ্যের অবস্থা বুঝে ফল খাবেন।

তবে সব ধরনের ফল পরিপাকতন্ত্রে গোলামাল বাঁধায় না। কিউই, পেপে, আনারস সহজে হজম হয়ে যায়। তবে সেটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ফল ক্ষতিকর নাকি আপনার পছন্দ ভুল?

স্বাস্থ্যের জন্য ফল কখনোই খারাপ না। হতে পারে ভুল সময়ে শরীরের অবস্থা না বুঝে আপনি ভুল ফলটি খাচ্ছেন। তাই পুষ্টিবিদরা এখন রোগীদের জন্য একটি সাধারণ খাদ্যতালিকা ব্যবহার করার চেয়ে ব্যক্তির সার্বিক অবস্থা, ওষুধ, ল্যাব রিপোর্ট এবং জীবনযাপন বিবেচনা করে একটি নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

এএ/এজেড