বর্তমানে মানুষ অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা সবকিছু থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নেই। আর সেজন্য কোন খাবার উপকারি, কোনটি ক্ষতিকর তা জানা জরুরি।
অনেকেই মনে করেন, ফলের রস পান করা স্বাস্থ্যকর। কারণ এটি ফল দিয়ে তৈরি। কিন্তু আসলেই কি রস ফলের মতো উপকারি? না কি এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে? চলুন জানা যাক-
বিজ্ঞাপন

ফলের রস খেলে যেসব ক্ষতি হতে পারে
রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি
যখন ফলের রস তৈরি করা হয় তখন এতে উপস্থিত প্রাকৃতিক শর্করা খুব দ্রুত শরীরে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে প্যাকেটজাত জুস বা বাজারে পাওয়া অতিরিক্ত মিষ্টি জুস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি হতে পারে। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়
ফলের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এতে থাকা ফাইবার। কিন্তু জুস করার সময় এই ফাইবার প্রায় সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা হয়। এই ফাইবারের অভাবের কারণে, সুগার সরাসরি রক্তপ্রবাহে চলে যায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

উচ্চ ক্যালোরি ও চিনি
এক গ্লাস জুসে বেশ কয়েকটি ফল থাকে। এটি শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি ও সুগার সরবরাহ হয়, যা ওজন বৃদ্ধি এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
যদি একজন ডায়াবেটিস রোগী জুস খেতে চান, তাহলে কেবল ঘরে তৈরি তাজা জুস খাওয়া উচিত। প্যাকেটজাত জুস খুব কম পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং খুব মিষ্টি জুস সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা উচিত।

গোটা ফল খাওয়া কেন বেশি উপকারী?
ফাইবার সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
পুরো ফল খেলে শরীরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার প্রবেশ করে। এই ফাইবার সুগারকে ধীরে ধীরে রক্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া রোধ করে।
ভিটামিন ও খনিজ
ফল খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করে।

প্রাকৃতিক মিষ্টতা নিরাপদ
ফলের মিষ্টতা প্রাকৃতিক। সঠিক পরিমাণে ফল খেলে শরীরের ক্ষতি হয় না বরং শক্তি জোগায়।
সেরা স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প
ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফল খাওয়া একটি দুর্দান্ত খাবারের বিকল্প। এতে পেট ভরা থাকে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের আকাঙ্ক্ষা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
এনএম

