লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
দিনভর কাজের চাপ আর মধ্যরাত পর্যন্ত স্মার্টফোনের স্ক্রিন স্ক্রলিং। পাশের মানুষটির দিকে তাকানোরও যেন সময় নেই। বেশিরভাগ দাম্পত্য এখন এই সমীকরণে এসে পৌঁছেছে। ফলাফল, মনের ভার বাড়ছে, ভাঙছে সংসার। রোজই লেগে থাকছে অশান্তি।
সম্পর্কে কথার চেয়ে অভিমান বেশি জায়গা দখল করে ফেললে তা অবশ্যই ভালো কিছু বয়ে আনে না। কিন্তু জানেন কি, ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই সংসার থেকে হারিয়ে যাওয়া আলো ফেরাতে পারে? সম্পর্কের জমাট বাধা বরফ গলাতে কাজে লাগাতে পারেন ৫-৫-৫ ফর্মুলা। কীভাবে এটি কাজ করে? চলুন জেনে নিই-

নাম দেখে অঙ্কের কোনো হিসেব মনে হলেও ব্যাপারটা তেমন নয়। এটি ভালোবাসার সহজ ব্যাকরণ। এখানে ৫ দিয়ে তিনটি স্তম্ভ বোঝানো হয়েছে। এগুলো হলো- কথা বলা, প্রশংসা করা, আদর করা। মনোবিদদের মতে, বড় কোনো উপহার নয় বরং এই ছোট অভ্যাসগুলোই সম্পর্ককে মজবুত ও দীর্ঘজীবী করে।
সারাদিন কী কাজ করলেন, অফিসে কী হলো, বাজারে কী মিলল— এসব আলোচনা নয়। ৫ মিনিট রাখুন কেবল নিজেদের জন্য। এসময় ফোন দূরে রাখুন। একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। একে অন্যের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। মাত্র ৫ মিনিটের এই কথোপকথনই মানসিক দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিয়ে আসবে।

সঙ্গী আপনার জন্য যা করছেন তা অবহেলা করবেন না। দিনে অন্তত ৫ বার তার কাজের প্রশংসা করুন। তাকে ধন্যবাদ দিন। হতে পারে সেটি তার হাতের রান্না, সাজগোজ, বাজার করা, বিছানা ঝাড়া কিংবা ছোটোখাটো কোনো কাজ। মানুষ যখন অনুভব করে প্রিয় মানুষটির কাছে তার গুরুত্ব আছে তখন সম্পর্কের প্রতি টান আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন-
সম্পর্কে স্পর্শ বা ‘ফিজিক্যাল টাচ’ খুব জরুরি। দিনে অন্তত ৫ বার ছোট ছোট ভালোবাসার ইশারা প্রকাশ করুন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আলিঙ্গন করা, রাস্তায় হাঁটার সময় হাত ধরা কিংবা সোফায় পাশাপাশি বসার সময় গায়ে একটু হেলান দেওয়ার মতো কাজগুলোই যথেষ্ট। এসব স্পর্শে শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসরণ ঘটায়। যা মানসিক চাপ কমায়, ভালোবাসা বাড়ায়।

গবেষণা বলছে, সম্পর্কে যখন একঘেয়েমি আসে, তখন ছোট ছোট জেস্টারগুলোই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে কাজ করে। এই ৫-৫-৫ নিয়ম মেনে চললে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বাড়ে, ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং দাম্পত্য জীবনে পজিটিভিটি বজায় থাকে। তাই সম্পর্ককে মজবুত করতে আজ থেকে এই অভ্যাস অনুশীলন করুন।
এনএম