লাইফস্টাইল ডেস্ক
২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:০৩ পিএম
জ্বর হোক কিংবা পেট ব্যথা—সমস্যা যাই হোক অস্থির হয়ে পড়েন যে মানুষটি তিনি বাবা। সন্তানের সব ইচ্ছাপূরণের জন্য তিনি হয়ে ওঠেন সুপারহিরো। পরিবারের সবারটা দেখতে গিয়ে ভুলে যান নিজের কথাই।
কখনো কি বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে ভেবেছেন? ছোটবেলায় তিনি যেমন আমাদের ভালোমন্দ নিয়ে ভেবেছেন, তেমনি আমাদেরও উচিত বাবাদের নিয়ে ভাবা। বাবা অবহেলা করলেও তার শরীরের যত্ন নিতে কিছু ব্যাপারে অবহেলা করবেন না। কী সেগুলো? চলুন জেনে নিই-

চেকআপের কথা আসলেই বাবারা যুক্তি দিতে শুরু করেন। বলেন, তিনি একদম ফিট আছে। শরীরে কোনো রোগ না থাকলেও প্রতিবছর অন্তত এক বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেই হবে।
আরও পড়ুন- বাবা সব জানে, সব পারে
বেশিরভাগ সময়ই চেকআপের অভাবে অনেক রোগ নীরবে আমাদের শরীরে জটিল আকার ধারণ করে। কিন্তু আগে থেকে কোনো রোগ ধরা পড়লে তা গোড়া থেকে নির্মূল করা সহজ হয়। তাই বাবা মানা করলে প্রতি বছর একবার তার পুরো শরীর চেকআপ করিয়ে নিন।

শরীরের অস্বস্তি বেশিরভাগ সময় চেপে রাখেন বাবারা। ব্যথা করলে দ্রুত পেইনকিলার খেয়ে ফেলেন। এমন অভ্যাস কিন্তু মোটেও ভালো নয়। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সামান্য পেটব্যথাই হতে পারে হৃদরোগের ইঙ্গিত। আগে থেকে সতর্ক থাকলেই যেকোনো মারণরোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। তাই বাবার শরীরে কোনোরকম অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরিবারের সবার চাহিদা পূরণ করতে বাবারা দিনরাত পরিশ্রম করেন। কাজের মধ্যে এতটাই ডুবে থাকেন যে ভুলে যান শরীরের কথা। এতে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। আর এই মানসিক চাপই নানা রোগের মূলে আছে। তাই কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন- বাবাকে নিয়ে কিছু আবেগঘন স্ট্যাটাস
বাবা যেন মাঝেমধ্যে বিরতি নেন তা নিশ্চিত করুন। তাকে নিয়ে বেড়াতে যান। কদিন কাজ থেকে দূরে থাকলে মনমেজাজ ভালো থাকবে। ভালো থাকবে শরীরও।

বাবার কি ধূমপানের অভ্যাস আছে? উত্তর হ্যাঁ হলে তাকে তা ছাড়তে অনুরোধ করুন। এই অভ্যাস ছাড়তে পারলে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মতো রোগকে ঠেকানো সহজ হয়। বাবার এই অভ্যাস ছাড়ানোর চেষ্টা করুন।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে অনেক রোগ থেকেই মুক্তি পাওয়া যায়। তাই বাবাকে শরীরচর্চায় উৎসাহ দিন। কঠিন ব্যায়াম না হলেও রোজ অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে তাকে স্পোর্টস শু কিনে দিন। শরীর সচল থাকলে অনেক রোগ থাকে দূরে।

বাবা যেন সুস্থ থাকে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই। তাই নিয়মিত তার খেয়াল রাখুন।
এনএম