images

লাইফস্টাইল

পলিসিস্টিক ওভারি কী খেলে ভালো হবে, কী খাবেন না 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২৫, ০১:০৮ পিএম

বর্তমানে নারীদের জীবনে একটি অতি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পিসিওএস। অসংখ্য ঋতুবতী নারী এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা এর জন্য জীবনযাপনের কিছু ভুল পদ্ধতিকেই দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। 

পিসিওএস হলে নারীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যায়। পাশাপাশি শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ বেশি হওয়ায় ডিম্বাসয়ের চার পাশে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়।

pcos1

এই রোগে ভোগা ৫০ শতাংশ মেয়েরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। মেদ সহজেই বেড়ে যায়, শরীরে লোম বেশি দেখা যায়, মাথায় চুল পড়ার প্রবণতাও বাড়ে। পাশাপাশি চোখে পড়ে খুব বেশি মাত্রায় সিস্টের সমস্যা।

পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে ভোগা মেয়েদের শরীরে সাধারণত ইনসুলিনের পরিমাণ কম থাকে। কিংবা তা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যাধিক বেশি হয়ে পড়ে। এর ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা দেখা যেতে পারে।

pcos2

পিসিওএসে ডায়েট মানা কেন জরুরি

পিসিওএস বা পিসিওডি থাকলে খাওয়া-দাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। কারণ ওজন ঠিক থাকলে মাসিক নিয়মিত হয়ে যাবে আর এই সমস্যা অনেকটা কমে যাবে। 

আরও পড়ুন- 
 
 
 

কোন ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা ভালো তার স্পষ্ট ধারণা থাকলে আপনারই ডায়েট তৈরি করতে সুবিধা হবে। স্ত্রীরোগ চিকিৎসকের মতে, পিসিওএস থাকলে হাই ফাইবার, লো-কার্ব ডায়েট মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ ভাত-রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট কম খেয়ে শাক-সবজি, ডাল এগুলো বেশি করে খেতে হবে। তবে মাটির নিচের সবজি যেমন আলু, মিষ্টি আলু, গাজর, বিট একটু কম খাওয়াই ভালো। 

pcos3

ফলের মধ্যে আম, কলা, লিচু আর আঙুর বাদে যে কোনো ফল ফেতে পারেন। এই চারটি ফলে কার্বোহাড্রেট বেশি, তাই এড়িয়ে চলাই ভালো। 

পিসিওএস থাকলে ভাজাভুজি, জাঙ্ক ফুড, প্রসেস করা খাবার যেমন কেক, পেস্ট্রি, চকলেট, পাউরুটি, বার্গার, ময়দার জিনিস, সসেজ, সালামির মতো খাবারও ডায়েট থেকে বাদ রাখতে হবে। মিষ্টি, আইসক্রিম, কোমল পানীয়র মতো খাবার যত কম খাবেন ততই মঙ্গল। 

pcos4

পিসিওএস থাকলে কী খেতে পারবেন? 

রেড মিটের বদলে চিকেন খান। মাছ খুব ভালো লিন প্রোটিনের উৎস। তাই পাতে মাছ রাখুন। প্রতিদিন একটি করে ডিম খেতে পারেন। ডাল খেতে পারেন। চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড, কুমড়োর বীজ, সূর্যমুখীর বীজের মতো নানারকম বীজ খেতে পারেন। 

আরও পড়ুন- 
 
 
 

হাই ফাইবার যুক্ত সবজি খান। ফুলকপি, ব্রকোলি, লেটুস পাতা, মিষ্টি কুমড়া, শিম ইত্যাদি ফাইবারের ভালো উৎস। 

কাঠবাদাম, আখরোট, যেকোনো ধরনের বেরি, শসা, টমেটো, আপেল, নানারকম লেবু খেতে পারেন।

pcos5

রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন অলিভ অয়েল বা যেকোনো খাঁটি তেল। চকলেটের বদলে মাঝেমধ্যে এক টুকরো ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। 

আটা-ময়দার বদলে খাদ্যতালিকায় রাখুন রাগি, জোয়ার, বাজরার মতো অন্য শস্যগুলো। তবে দুই বেলা ভাত-রুটি কম করে সবজি বা সালাদ বেশি খাওয়াই ভালো হবে। 

স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বদলে সব সময়ে গুড ফ্যাট বেছে নিন। যেমন দিনে অল্প করে ঘি খেতে পারেন। পিনাট বাটার বা আমন্ড বাটারের মতো বাদাম থেকে তৈরি মাখন ব্যবহার করতে পারেন পাউরুটিতে। 

এনএম