লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২৩ পিএম
প্রতিমাসের ৪-৫টি দিন বেশিরভাগ নারীকেই অস্বস্তিতে কাটাতে হয়। ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের এই কটা দিনে কেউ ভোগেন তলপেট ব্যথায়। কারো মুখ ভরে যায় ব্রণে। অনেকের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেই মুখে ব্রণ ওঠে। কিন্তু কেন এমন হয়?
আসলে পিরিয়ডকালীন ত্বক অত্যধিক মাত্রায় স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। সাধারণত হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণেই এমনটা হয়। তাই এসময় ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে হয়।

ঋতুস্রাবের মোটামুটি ৭-১০ দিন আগে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা সারা মাস এক থাকলেও, ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে গেলে সেটি সরাসরি ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। একইসঙ্গে ঋতুকালীন সময়ে প্রোজেস্টেরন হরমোনেরও তারতম্য দেখা দেয়।
ঋতুস্রাবের ১২-১৩ দিন পর ডিম্বস্ফোটনের সময়ে শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে। তখন ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকে জ্বালা ভাব হয়। কারো ত্বকে লালচে র্যাশ দেখা দিতে পারে। আবার যখন ঋতুস্রাব শুরু হয়, তখন ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে। তখন ত্বক তৈলাক্ত হয়ে ব্রণর সমস্যা দেখা দেয়। যাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস আছে তাদের এই সমস্যা আরও বেশি হয়।

বেশি করে পানি পান করতে হবে ওই সময়টাতে। পর্যাপ্ত পানি খেলে ত্বক আর্দ্র থাকবে। ফলে ব্রণসহ অন্যান্য সমস্যা আর হবে না।
ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত ব্রণ হয়। তাই ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করা জরুরি। অয়েল-ফ্রি ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

অনেকেই ব্রণ খুঁটে ফেলেন। এতে হিতে বিপরীত হয়। বার বার ব্রণ স্পর্শ করলে এতে থাকা জীবাণু ত্বকের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ব্রণ তো কমেই না, উল্টে বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন-
অতিরিক্ত তেলমশলা যুক্ত খাবার খাওয়া চলবে না। ভাজাপোড়া, কোল্ড ড্রিংক্স, চকলেট, মিষ্টি জাতীয় খাবার এসময় কম খাওয়া উচিত। খাদ্যতালিকায় রাখুন শাকসবজি আর প্রচুর মরসুমি ফল। ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খান। চিনি কম খেলেই ভালো।

এছাড়াও ঋতুস্রাবের সময় যেহেতু ত্বক খুব সেনসিটিভ থাকে তাই এসময় মেকআপ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবেন। আর মেকআপ করলেও তা নির্দিষ্ট সময় পর ভালো করে পরিষ্কার করে নেবেন।
এনএম