Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়ালি হাজির জিয়াউল, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

নিরাপত্তা শঙ্কার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার বিচারিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে শুনানিকালে কারাগার থেকে আইনজীবীর সঙ্গে তাকে ফোনে বা হোয়াটসঅ্যাপে গোপনে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যদিও জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহারের দাবি, তারা ভার্চুয়াল আদালতের আবেদন করেননি; বরং প্রিজন ভ্যানে আলাদা করে আনা-নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে যুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম।

তিনি জানান, শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালের বড় স্ক্রিনে জিয়াউল আহসানকে দেখা যায় এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য তিনি শুনতে পান। পাশাপাশি তার বক্তব্যও ট্রাইব্যুনাল শোনেন।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘আনা-নেওয়ার পথে নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনার শঙ্কা প্রকাশ করে জিয়াউল আহসান এর আগে একটি আবেদন করেছিলেন। তার চাওয়া ছিল অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে তাকে আনা হোক। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাই তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে ভার্চুয়ালি হাজির করানো হোক। ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে ভার্চুয়ালি হাজির করার আদেশ দেন।’

তিনি আরও জানান, শুনানিকালে আসামিপক্ষ থেকে আরেকটি আবেদন করে বলা হয়, তারা ভার্চুয়ালি কার্যক্রম চান না। কারণ শুনানির সময় আসামির সঙ্গে তার আইনজীবীর একান্ত (সিকিউরড) যোগাযোগের প্রয়োজন হয়।

তামিম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল ভার্চুয়াল কার্যক্রম বহাল রেখে তাদের আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। আদেশ দেওয়া হয়েছে, জিয়াউল আহসান ও তার আইনজীবীর মধ্যে শুনানিকালে হোয়াটসঅ্যাপ বা ফোনে একান্ত যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকবে, যা শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, অন্য কেউ শুনতে পাবেন না।’

পরবর্তীতে প্রয়োজন মনে করলে ট্রাইব্যুনাল তাকে আবার সশরীরে হাজির করানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন বলেও জানান তিনি।

ভার্চুয়াল শুনানি চাইনি: আইনজীবী

এদিকে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার দাবি করেছেন, তারা ভার্চুয়াল আদালতের আবেদন করেননি; বরং প্রিজন ভ্যানে আলাদা করে আনা-নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আগে তাকে সবার সঙ্গে প্রিজন ভ্যানে আনা হতো। হঠাৎ কেন তাকে একা একটি ভ্যানে আনা শুরু হলো, সেটির কারণ জানতে চেয়ে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম। আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট চাইনি, এটা প্রসিকিউশন চেয়েছে।’

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া এক আবেদনে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী উল্লেখ করেছিলেন, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে অন্য বন্দীদের ছাড়া তাকে একক ভ্যানে বহন করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। একক ভ্যানে বহনের সময় কোনো দুরভিসন্ধিমূলক ক্ষতি বা প্রাণনাশের শঙ্কা থেকেই অন্য বন্দিদের সঙ্গে বহনের আবেদন জানানো হয়েছিল।

আইনজীবী নাজনীন নাহার আরও বলেন, ‘তাকে কেন একা আনা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর আমরা পাইনি। আর আদালতের আদেশের কোনো কপিও এখনও আমি পাইনি।’

এদিন এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) জেরা শুরু হয়েছে। পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

আরএনবি/এএম