জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
যুক্তিতর্কে মামলার পটভূমি তুলে ধরার পাশাপাশি তাইমকে কীভাবে ও কোথায় হত্যা করা হয়েছে, তার বিবরণ দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তবে এদিন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার ১১ আসামির মধ্যে বর্তমানে দুজন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত আলী। সোমবার শুনানির সময় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ বাকি ৯ আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক উপকমিশনার ইকবাল হোসাইন, অতিরিক্ত উপকমিশনার শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন এবং এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এই ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২৯ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
গত ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর ২৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন। ১৬ জুন তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। সাক্ষ্য ও জেরা পর্ব শেষে সোমবার শুরু হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় হাবিবুর রহমান ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তাইমকে হত্যা করা হয়। সে সময় তাইমকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতকেও গুলি করে পুলিশ।
এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়া, উসকানি ও প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
নিহত ইমাম হাসান তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়াও পুলিশ বাহিনীর সদস্য। তিনি বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আরএনবি/এআর




