Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

দুদকের ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে রিট আসিফ মাহমুদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে— দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের করা হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

রিটে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি করে দুদক যেন প্রেস ব্রিফিং না করে— সেই নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুদককে জনসমক্ষে ভুল স্বীকার করার আরজি জানানো হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিং করে জানান যে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা রিটে ওই দুটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আইনগত কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছি। রুল চাওয়া হয়েছে— কেন ওই প্রেস ব্রিফিংকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদের (ব্যক্তির সম্মান ও সুনামের অধিকার) ও দুদকের ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন ঘোষণা করা হবে না।

একইসঙ্গে যে গুরুত্ব দিয়ে দুদক সাংবাদিক ডেকে ওই ব্রিফিং করেছিল, ঠিক একইভাবে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করে ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। এ ছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না করার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গত ২ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম।

ওই বক্তব্যের পর গণমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আখতারুল ইসলাম দুদক বিটের সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে জানান, তার ওই বক্তব্য ‘ভুলবশত’ দেওয়া হয়েছিল। সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ারও অনুরোধ করেন তিনি।

রিটে দাবি করা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন না করায় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। যাতে অভিযোগগুলো যেন আগেই প্রমাণিত— জনমনে এমন ধারণা তৈরি হয়। 

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের নতুন অভিযোগ পাওয়ার কথা জানায় দুদক। অভিযোগে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং বিভিন্ন নিয়োগ, পদায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে।

এদিন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগসহ ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে কমিশন এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে।

আইনি নোটিশ ও অসংগতি

প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করায় গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠান আসিফ মাহমুদ। ১৫ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও সংশোধনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল সেখানে।

পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর এনসিপির মিডিয়া উইং জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেবেন আসিফ মাহমুদ।

ওই আইনি নোটিশে দুদক কর্মকর্তার আনা অভিযোগের তথ্যগত অসংগতিও তুলে ধরা হয়েছিল।

নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন গত বছরের ১০ ডিসেম্বর। আর ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় চলতি বছরের ১১ মে। অর্থাৎ আসিফের পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় তিন মাস পর ওই পদোন্নতি হয়।

এ ছাড়া ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি বাস্তবে ১১২ জন। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছিল বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

আইনি নোটিশে বেঁধে দেওয়া ১৫ দিন সময় পার হওয়ার পরও দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার না করায় সোমবার হাইকোর্টে এই রিট আবেদন দায়ের করা হল।

আরএনবি/এফএ