Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

গুম বিষয়ক নতুন আইন বিচারব্যবস্থায় মাইলফলক: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই আইনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিচারের দ্বার উন্মোচন

নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ একটি মাইলফলক। আগে গুম প্রতিরোধে অধ্যাদেশ থাকলেও বিগত সরকারের সময় আমরা এর বাস্তব প্রয়োগ দেখিনি। কারণ মানবাধিকার কমিশন তখন কার্যকর ছিল না। ফলে গুমের কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া আমরা দেখিনি।

বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই আইনটি সংশোধিত আকারে পাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়েছে।

আইনের ব্যাখ্যা ও ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা আটক করে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় অজ্ঞাত স্থানে গোপন রাখে এবং আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে, তবে তা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, যদি গুমের ঘটনা ব্যাপক মাত্রায় বা পরিকল্পিত (সিস্টেমেটিক) হয়, তবে সেটি ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। আর এমন অপরাধের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

অন্যান্য আদালতে চলমান মামলা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো গুমের বিচার সাধারণ আদালতে চলাকালে যদি প্রতীয়মান হয় যে এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া বাঞ্ছনীয়, তবে সংশ্লিষ্ট আদালত তা ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে পারবেন। এ ছাড়া চিফ প্রসিকিউটর বা তদন্ত সংস্থারও এখতিয়ার রয়েছে অন্য আদালত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসার।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই আইনটি একটি ‘কমপ্লিট ল’ বা পূর্ণাঙ্গ আইন। এর ফলে সারাদেশে গুমের বিচারের সুযোগ তৈরি হলো এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে কোনো ধরনের আইনি সংঘাত (কনফ্লিক্ট) হওয়ার সুযোগ থাকল না।

ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া অভিযোগগুলো নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণ করে দেখব। যেসব গুম ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক’ পর্যায়ের নয়, সেগুলো স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। আইনের পরিপেক্ষিতে আমরা প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত নেব।

আরএনবি/এফএ