নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে ২০২২ সালের সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার যেসব বিধান ওই আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করেছেন আদালত।
গত ২৪ আগস্ট এ বিষয়ে রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস.এম. সাইফুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
আদালতের রায়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রে জানানো হয়েছে। ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সাইফুল আলম চৌধুরী প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর ১৮ ধারায় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রয়েছে। আইনে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধারার প্রথম উপধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজ যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুসারে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩-এর ৩৮ অনুচ্ছেদ এবং ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সিন্ডিকেট অনুমোদিত গভর্নিং বডি গঠনের নীতিমালা অনুসরণ করে আসছিল। এতে ২০২২ সালের আইনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার বেশ কিছু বিধানের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০ সালের নীতিমালা অনুযায়ী গভর্নিং বডি ১৫ সদস্যের। অন্যদিকে ২০২২ সালের আইন অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা সাতজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় চেয়ারম্যান উপাচার্য কর্তৃক মনোনীত হওয়ার বিধান থাকলেও আইনে উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচজন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মনোনীত হওয়ার বিধান রয়েছে। বিপরীতে ২০২২ সালের আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। আইনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের একজন প্রতিনিধির বিধান থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় এ ধরনের কোনো বিধান নেই।
পর্ষদে উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও দুই বিধানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ২০২২ সালের আইনে পরিচালনা পর্ষদের ৫০ শতাংশ সদস্য উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে থাকার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় ১৫ সদস্যের গভর্নিং বডিতে প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠপোষক ও দাতার প্রতিনিধিসহ উদ্যোক্তাপক্ষের সদস্য তিনজন, অর্থাৎ ২০ শতাংশ।
এ অবস্থায় বেসরকারি শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধান ও নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। রিটটির নম্বর ১২৪৭১/২০২৫।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ে বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩-এর ৩৮ অনুচ্ছেদ এবং ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সিন্ডিকেট অনুমোদিত নীতিমালার যেসব অংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেসব অংশ বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।
একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অধিভুক্ত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর ১৮ ধারা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় বিধান গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আইন অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজকে সংশ্লিষ্ট কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি এসব কলেজের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে অধিভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এ রায় তাৎপর্যপূর্ণ।
/এএস