শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

আওয়ামী লীগ আমলের সব নিয়োগ খতিয়ে দেখবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

আওয়ামী লীগ আমলের সব নিয়োগ খতিয়ে দেখবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) হওয়া নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনায়ও পৃথক কমিটি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষকসহ সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রমে নিয়মনীতি ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখবে কমিটি। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিনদের সদস্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ)’-এর আওতায় বাস্তবায়িত গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে।

আরও পড়ুন: ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি, সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ৬৮ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ‘নীল দল’-এর মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বয়কটের মুখে পড়েন। অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর আগে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর মধ্যে শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে ‘অশিক্ষকসুলভ আচরণ’ এবং ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের’ অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইভাবে ভিন্ন অভিযোগে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর