Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

৬ পুলিশ সদস্য কারাগারে, সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জনকে হাজিরে বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

জুলাই আন্দোলন চলাকালে সাভারে এমআইএসটির শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলি করার পর সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৩ জনকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই মামলায় গ্রেফতার থাকা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন— সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান। 

অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকায় তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতক যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ এবং সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

শুনানিতে তিনি বলেন, এই মামলায় মোট ১৯ জন আসামির মধ্যে ছয়জন অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। বাকি ১৩ জন আসামির স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েও পুলিশ তাদের হদিস পায়নি। পুলিশ এ সংক্রান্ত নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করেছে। তাই আইন অনুযায়ী তাদের আত্মসমর্পণের জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন জানানো হয়েছে।

আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে পলাতকদের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভারের বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন দুপুরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার মুখে ইয়ামিনকে ধরে সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে গিয়ে খুব কাছ থেকে বুকে গুলি করা হয়। এরপর গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রেখে এপাশ-ওপাশ টহল দিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে এপিসি থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় এবং রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামিনকে এপিসি থেকে ফেলে দেওয়ার ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ তৈরি করেছিল।

আরএনবি/এফএ