Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কাদেরসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট এই মামলার যুক্তিতর্কের (আর্গুমেন্ট) জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন মামলার ২৭ নম্বর ও শেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।

জেরা শেষ হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও মঈনুল করিমসহ অন্য আইনজীবীরা।

এর আগে, গত ২৬ জুলাই এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের চিত্র এবং জুলাই আন্দোলনের বিবরণ তুলে ধরেন।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যার ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করা হয়।

ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

আসামিরা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার শুরু হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা জুলাই আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। 

এ ছাড়া একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে যে হত্যা ও দমন-পীড়ন চলেছে, তা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে বিচারযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।

আরএনবি/এফএ