সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেফতার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না মর্মে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৫টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
তবে ১৫টি আবেদনের মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সংক্রান্ত আবেদনটি আগামী রোববার শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম।
সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই আসামিদের নতুন বা এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়। সেসব রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে অন্তর্র্বতীকালীন নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যব্যবস্থায় আমাদের অনেকের মধ্যে ধারণা থাকতে পারে যে কোনো ঘটনা ঘটলে সবসময় কি তার আত্মীয়স্বজন মামলা করে না। পুলিশ করে, কর্তৃপক্ষ করে, যেকোনো ব্যক্তি করে। সুতরাং তদন্তে যদি কারও নাম আসে, তিনি অভিযুক্ত হতে পারেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে— ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা যদি এজাহারে নাও থাকে, তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ায় তার সম্পৃক্ততা পান, তবে তিনি তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন অবশ্যই করতে পারবেন।’
জুলাই আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট পূর্ববর্তী গণহত্যা, ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, গুম-খুনের মামলায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্তকারী সংস্থার সময় লাগবে। নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং আইনের নিজস্ব গতি— এই দুটির মধ্যে ব্যালেন্স করতে হবে। ওপেন অর্ডার থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুতর অপরাধের তথ্য পেলেও কাউকে আইনের সোপর্দ করতে পারতো না।’
তবে এই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ছিল। কিন্তু তার মধ্যেই হঠাৎ করে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দিলেন।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘রিটকারী সব পক্ষকে এ বিষয়ে শুনানির পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়েই আপিল বিভাগ এই আদেশ দিয়েছেন।’
আইনজীবীরা জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে এখন থেকে কোনো ব্যক্তির নাম এজাহারে না থাকলেও তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার দেখাতে আইনি কোনো বাধা থাকল না।
আরএনবি/এএইচ




