Dhaka Mail Logo

চাকরি

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে চাকরি খুঁজবেন যেভাবে

চাকরি ডেস্ক

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

চাকরি জন্য নেটওয়ার্কিং অত্যন্ত জরুরি। আর নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অন্যতম। লিংকডইনের পাশাপাশি এখন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও প্রচুর চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সঠিক কৌশল জানা থাকলে এখান থেকেই শুরু হতে পারে  আপনার ক্যারিয়ার। তাই সারাদিন শুধু স্ক্রল করে সময় নষ্ট না করে এসব প্লাটফর্মগুলোকে নেটওয়ার্কিংয়ে কাজে লাগিয়ে চাকরির সন্ধান করুন। কীভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে চাকরির সন্ধান পাবেন তা জেনে নিন এই প্রতিবেদন থেকে।

job_search

প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট: প্রথমেই নিজের প্রোফাইলটিকে প্রফেশনালভাব সেটআপ করুন। আইডিতে আপনার আসল নাম ব্যবহার করুন। আর প্রোফাইলে ভালো একটি ছবি আপলোড দিন। কেননা, কাউকে যখন চাকরির জন্য অ্যাপ্রোচ করবেন সবার আগে তিনি আপনার প্রোফাইলের নাম ও ছবিটি দেখবেন। তাই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটি যেন আপনার ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলে সে বিষয়টি মাথায় রেখে অ্যাকাউন্ট অপ্টিমাইজ করুন।

আরও পড়ুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে সিভি কাস্টমাইজ করবেন যেভাবে

স্পষ্ট বায়ো লিখুন: আপনি যে ধরনের কাজ করেন বা জানেন, যেসব বিষয়ে দক্ষ সেসব প্রোফাইলের বায়ো বা ইন্ট্রোতে এক সংক্ষেপে লিখুন। উদাহরণসরূপ, “Graphic Designer | Open to Freelance Projects”।

কাজ নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিন: আপনার করা ভালো কাজ বা প্রজেক্টের ছবি ও লিংক নিয়মিত অ্যাউন্টে শেয়ার করুন। কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও মাঝে মাঝে প্রোফাইলে পোস্ট করুন। ছোট ছোট টিপসও শেয়ার করতে পারেন।

images

ফেসবুক গ্রুপ: ফেসবুকে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে কার্যকর জায়গা হলো বিভিন্ন গ্রুপ। আপনার স্কিল অনুযায়ী গ্রুপগুলো খুঁজে বের করুন। পছন্দের পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত টার্গেটেড গ্রুপগুলোতে যুক্ত হোন। যেমন: কনটেন্ট রাইটার, ওয়েব ডিজাইনার, জার্নালিস্ট ইত্যাদি। এই গ্রুপগুলোতে নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রত্যাশী উভয় থাকেন। এখানে নিয়মিত চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: যেভাবে সিভি লিখলে অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি পাবেন ফ্রেশাররা

গ্রুপ নেটওয়ার্কিং: এসব গ্রুপে কেউ কোনো সমস্যার কথা জানিয়ে পোস্ট করলে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করুন। এতে আপনার আইডি গ্রুপের মডারেটর এবং চাকরিদাতাদের নজরে আসবে। 

ইনস্টাগ্রামে হ্যাশট্যাগ ও পেজ ফলো: ইনস্টাগ্রাম মূলত ডিজাইনার, ভিডিও এডিটর, ফটোগ্রাফার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মতো ক্রিয়েটিভ পেশাজীবীদের জন্য চমৎকার একটি প্ল্যাটফর্ম। এই প্লাটফর্মে #JobSearchBD, #Hiring, #CreativeJobs-এর মতো হ্যাশট্যাগ লিখে সার্চ করে সাম্প্রতিক নিয়োগের পোস্টগুলো দেখুন।

job_recruiter

পছন্দের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ফলো করুন: আপনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করতে চান তাদের অফিসিয়াল পেজ এবং সেসব প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন তাদের অ্যাকাউন্ট বা পেজ ফলো করে রাখুন। তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠানের চাকরিসংক্রান্ত যেকোনো আপডেট আপনি সহজেই পেয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন: চাকরির বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপায়

ইনবক্সে কোল্ড টেক্সট করবেন না: এটি খুবই গুরুত্বপূণ একটি বিষয়। অনেকেই অপরিচিত কোনো চাকরিদাতা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার ইনবক্সে হুট করে মেসেজ করে যা খুশি লিখে ফেলেন। কেউ কেউ শুধু একটি লাইক দেন বা, হাই/হ্যালো লিখে উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকেন। এ ধরনের মেসেজকে বলা হয় ‘কোল্ড টেক্সট’ যা অধিকাংশ সময়ই মানুষ এড়িয়ে যায়। তাই এ ধরনের মেসেজ করা থেকে বিরত থাকুন।

dp

ইনবক্সে মেসেজ লিখবেন যেভাবে: মেসেজটি সালাম বা শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করবেন। এরপর আপনার নাম ও পেশা কি তা গুছিয়ে লিখবেন। আপনি কেন তাকে মেসেজ দিচ্ছেন এবং তার বা তার প্রতিষ্ঠানের কোন বিষয়টি আপনার ভালো লেগেছে তা সংক্ষেপে জানান। এরপর আসে মূল বার্তা। আপনার দক্ষতার কথা তাকে জানিয়ে তার কাছে আপনার জন্য কোনো সুযোগ আছে কি না জানতে চান। প্রয়োজনে মেসেজের শেষে আপনার কাজের পোর্টফোলিও লিংকটিও যুক্ত করে দিন।

যে ভুলগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন

আরও পড়ুন: নতুন চাকরিতে জয়েন করার পর কী করবেন, কী করবেন না

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত পোস্ট: ক্যারিয়ারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে চাইলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে অতি আবেগি বা বিতর্কিত রাজনৈতিক পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনার সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণার জন্ম নিতে পারে।

win

বারবার মেসেজ দেওয়া: কাউকে মেসেজ করার পর উত্তর পাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠবেন না। মেসেজ করার পর অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন অপেক্ষা করুন। এরমধ্যেও উত্তর না পেলে জোর করবেন না বা অনুমতি ছাড়া বারবার কল দেবেন না। এতে আপনার বিষয়ে সে ব্যক্তির মনে নেতিবাচক ধারণার জন্ম হতে পারে এবং তিনি বিরক্ত হতে পারেন।
 
চাকরি পাওয়ার মূল চাবিকাঠিই হলো পেশাদারিত্ব ও ধৈর্য। তাই ধৈর্য ধরুন। একইসঙ্গে আপনার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ফিডকে একটি ডিজিটাল রিজিউমি বা জীবনবৃত্তান্ত হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের সঙ্গে সঠিক উপায়ে যোগাযোগ করতে পারলে ইনবক্স থেকেই শুরু হতে পারে আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার।

এএ