Dhaka Mail Logo

চাকরি

যেভাবে সিভি লিখলে অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি পাবেন ফ্রেশাররা

আলেয়া আক্তার

০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করে চাকরির বাজারে পা রাখতেই কাজের অভিজ্ঞতার শর্তে আটকে গেছেন? অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি মিলছে না, আবার চাকরি না হলে অভিজ্ঞতাও হচ্ছে না! এই গোলকধাঁধায় যারা বিভ্রান্ত তাদের জন্যই আজকের প্রতিবেদন। জেনে নিন কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই দারুণ একটি সিভি দিয়ে নিয়োগকর্তার নজর কাড়ার কৌশলগুলো।

১. সিভিতে যেসব বিষয় হাইলাইট করবেন

সিভিতে এই বিষয়গুলো যত্নের সঙ্গে যুক্ত করবেন-

images

শিক্ষাজীবনের অর্জন: আপনার ভালো সিজিপিএ, একাডেমিক স্কলারশিপ বা বিশেষ কোনো প্রজেক্টের সাফল্য সিভিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন।

সাংগঠনিক কাজের অভিজ্ঞতা: আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে বা অন্য কোনো ক্লাবের সদস্য হন কিংবা কোনো সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকেন তবে সিভিতে তা অবশ্যই উল্লেখ করবেন। এতে আপনার নেতৃত্ব ও টিম পরিচালনার দক্ষতা প্রকাশ পাবে।

সহশিক্ষা ক্লাবের সম্পৃক্ততা: শিক্ষাজীবনে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং বা বিতর্ক ক্লাব, আবৃত্তিচর্চা কিংবা লেখালেখির মতো কাজের অভিজ্ঞতা ফ্রেশারদের সিভিতে বড় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

business-situation-job-interview-concept-job-seeker-present-resume-managers-1024x675

এক্সট্রা ক্যারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস: খেলাধুলা, সাইক্লিং বা নিয়মিত ব্যায়ামের মতো কার্যক্রমগুলো সিভিতে যুক্ত করুন। এগুলো আপনার কর্মদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক সহনশীলতা এবং শৃঙ্খলার গুণ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে সিভি কাস্টমাইজ করবেন যেভাবে

শখ: বই পড়া, কনটেন্ট রাইটিং বা ছবি আঁকার মতো শৌখিন বিষয়গুলো সিভির ‘Hobby’ সেকশনে তুলে ধরুন। এটি আপনার সৃজনশীল মানসিকতার পরিচয় দেয়। 

২. সিভিতে অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ করবেন যেভাবে

বিশ্ববিদ্যালয়ের বা ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু কাজকে সিভিতে অফিশিয়াল ‘অভিজ্ঞতা’ হিসেবে দেখানো যায়। সিভি তৈরির সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে-

recruiter

ইন্টার্নশিপকে প্রাধান্য দিন: পড়াশোনার অংশ হিসেবে করা যেকোনো ইন্টার্নশিপকে পেশাদার অভিজ্ঞতা হিসেবে সিভির শুরুতেই সবার আগে তুলে ধরুন।

ফ্রিল্যান্সিং বা ছোট প্রজেক্ট: প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি না থাকলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে করা ফ্রিল্যান্সিং, কোনো লোকাল ক্লায়েন্টের ছোট কাজ কিংবা নিজের করা কোনো ছোট প্রজেক্টও আপনার দক্ষতার বড় প্রমাণ হতে পারে। এগুলোকে সিভির দক্ষতা সেকশনে যুক্ত করতে পারেন। তবে এর আগে যাচাই করে নেবেন সেগুলো আপনার পছন্দের পদের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কি-না।

CV-Writing-Services-in-Dubai-1024x576

প্রফেশনাল স্কিলস: মাইক্রোসফট অফিস, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি কিংবা ভালো যোগাযোগ দক্ষতার মতো টেকনিক্যাল ও সফট স্কিলগুলো সিভিতে আলাদা সেকশনে সুন্দর করে সাজিয়ে লিখুন।

৩. সিভি তৈরির সময় যা করবেন

আরও পড়ুন: সাংবাদিকতায় ডিগ্রি নাকি পোর্টফোলিও কোনটা জরুরি?

আদর্শ ফরম্যাট: সিভির সেকশনগুলো কন্টাক্ট ইনফরমেশন, অবজেক্টিভ, এডুকেশন, স্কিলস এই ক্রমানুসারে সাজান।

বুলেট পয়েন্ট: অর্জন বা অভিজ্ঞতা লেখার সময় বড় বড় বাক্য না লিখে ছোট ও স্পষ্ট বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন।

৪. সিভি তৈরির সময় যা করবেন না

6

অপ্রাসঙ্গিক তথ্য: সিভিতে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ফ্রেশারদের জন্য সঠিকভাবে লেখা ১ পাতার সিভিই যথেষ্ট।

বানান: শব্দচয়ন ও বানানের প্রতি যত্নশীল হন। ভুল বানান আপনার সিভির মান কমিয়ে ফেলে।

মনে রাখবেন, চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতা না থাকাটা কোনো অপরাধ নয়। শেখার প্রবল ইচ্ছা এবং ইতিবাচক মানসিকতাই আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। আর নতুনদের মধ্যে ঠিক এই বিষয়টি খুঁজেন নিয়োগকর্তারা।

এএ