Dhaka Mail Logo

চাকরি

নতুন চাকরিতে জয়েন করার পর কী করবেন, কী করবেন না

আলেয়া আক্তার

১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

চাকরি? এ যেন এক সোনার হরিণ! এই সোনার হরিণের পেছনে ছুটছে লাখ লাখ বেকার তরুণ। যদিও তবে খুব কম মানুষই এর দেখা পান। প্রতিদিন চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজা, একের পর এক ইন্টারভিউ দেওয়া আর রিজেকশন পাওয়ার কষ্টের আরেক নাম হলো চাকরি। আর চাকরি না পাওয়ার এই  কষ্টের অবসান ঘটে যখন চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় আপনি কাঙ্ক্ষিত একটি চাকরি পেয়ে যান। তখন আনন্দের আর সীমা থাকে না। তবে আসল প্রতিযোগিতা শুরু হয় চাকরি পাওয়ার পর। জানলে অবাক হবেন, চাকরি পাওয়ার পর সেটি টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই জানতে হবে চাকরি পাওয়ার পর কোন কাজগুলো গুরুত্বের সঙ্গে করবেন আর কোনগুলো কখনোই করবেন না। চলুন জেনে নিই চাকরির ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টস’ কী কী।

images_(2)
নতুন চাকরি পাওয়ার পর জয়েনে তাড়াহুড়া করবেন না।

নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কী কী দেখবেন

নতুন চাকরি পাওয়ার পর আবেগের বশবর্তী হয়ে জয়েনে তাড়াহুড়া করবেন না। জয়েনের আগে এই বিষয়গুলো জেনে নেওয়া উচিত। 

যে সব বিষয় যাচাই করবেন

আর্থিক সুবিধা: মূল বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বোনাস এবং ইনস্যুরেন্স সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন।

আরও পড়ুন: কতদিন পর পর চাকরি বদলানো উচিত? ঘন ঘন ক্যারিয়ার পরিবর্তনের ঝুঁকি জানুন

কাজের পরিবেশ: অফিসের কাজের সংস্কৃতি এবং নিয়মকানুন আপনার সঙ্গে মেলে কি না মিলিয়ে নিন।

কাজের সময় ও ছুটি: দৈনিক কর্মঘণ্টা, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ওভারটাইম পলিসি জেনে নিন।

ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার: নতুন দক্ষতা অর্জন এবং পদোন্নতির সুযোগ আছে কি না নিশ্চিত হোন।

প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিরাপত্তা এবং বাজারে তাদের সুনাম কেমন জানুন।

images_(6)
অফিসের নিয়মকানুন আপনার সঙ্গে মেলে কি না মিলিয়ে নিন।

যাতায়াত ব্যবস্থা: অফিস কত দূরে এবং যাতায়াতে কেমন সময় ও খরচ হবে তা ভাবুন।

ক্যারিয়ার সামঞ্জস্যতা: আপনার ক্যারিয়ারের সঙ্গে চাকরিটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা বিবেচনা করুন।

সতর্কতা: মনে রাখবেন, শুধু বেশি বেতনের আশায় চাকরি পরিবর্তন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

আরও পড়ুন: অফিসে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবেন কীভাবে?

‘ফার্স্ট ইমপ্রেশন ইজ দ্য লাস্ট ইম্প্রেশন’ বলে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। যার মানে, প্রথম সাক্ষাতে একজন মানুষ আপনাকে যেরকম দেখেন আপনাকে নিয়ে তার ধারণা সবসময় সেরকমই থেকে যায়। এই ধারণা দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই নতুন চাকরিতে যোগদানের শুরুতেই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। 

চাকরিতে জয়েন করার পর যা যা করবেন

যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক: সহকর্মী এবং টিমের সদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে পরিচিত হোন। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করুন।

কাজের পরিধি ও প্রত্যাশা: নিজের কাজের পরিধি এবং অফিসের প্রত্যাশাগুলো শুরুতেই স্পষ্টভাবে বুঝে নিন।

images_(3)
এইচআরের কাছ থেকে আপনার আইডি কার্ড, লগইন পাসওয়ার্ড বুঝে নিন।

নীতিমালা ও গোপনীয়তা: অফিসের কাজকর্মে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, এই গোপনীয়তা এবং নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

অ্যাক্সেস ও পরিচয়পত্র: এইচআরের কাছ থেকে আপনার আইডি কার্ড, লগইন পাসওয়ার্ড, মেইল আইডি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার অ্যাক্সেস সংগ্রহ করুন।

ডেস্ক গোছানো: নিজের আইডি কার্ড, ডেস্ক, টেলিফোন, কম্পিউটার বুঝে নিন। গুছিয়ে ফেলুন ডেস্কের খুঁটিনাটি সবকিছু।

আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রী কি একই অফিসে কাজ করা উচিত?

প্রযুক্তিগত ধারণা: মেইল সিস্টেম, কম্পিউটার পাসওয়ার্ড, ইন্টারনেটসহ আনুষঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিন।

নথিপত্র সংরক্ষণ: অফিস থেকে প্রাপ্য জিনিসের তালিকার একটি কপি নিজের কাছে রাখুন এবং বসকে অবহিত করুন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: সবকিছু পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না। প্রয়োজনে ফোন করে ধন্যবাদ জানান।

মনোযোগী শ্রোতা: প্রথম কয়েকদিন প্রশ্ন করার চেয়ে শোনার এবং বোঝার মানসিকতা রাখুন। সবকিছুর নোট নেওয়ার অভ্যাস করুন।

job
সবকিছু পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না।

সময়নিষ্ঠা: অফিসে সময়মতো উপস্থিত হওয়া এবং কাজের ডেডলাইন বা সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলা শিখুন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ: অফিসের যেকোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন এবং প্রাণবন্ত থাকুন।

যা যা বর্জনীয় বা করা যাবে না

তর্ক ও ঝগড়া এড়িয়ে চলা: সহকর্মী কিংবা বসদের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তর্কে বা ঝগড়ায় জড়াবেন না। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে পেশাদারীত্ব বজায় রেখে তা উপস্থাপন করুন।

আরও পড়ুন: সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের আগে যা জানা জরুরি

অহংকার প্রকাশ না করা: আপনি অনেক অভিজ্ঞ বা অনেক কিছু জানেন, এই মনোভাব প্রকাশ করবেন না। নম্র থাকুন এবং অন্যের কাছ থেকে শেখার মানসিকতা রাখুন।

একক সিদ্ধান্ত না নেওয়া: টিমের বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজের ইচ্ছে মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

images
অফিসের যেকোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন এবং প্রাণবন্ত থাকুন।

পরনিন্দা বর্জন: অফিসের কোনো নীতিমালা বা সহকর্মীদের নিয়ে আড়ালে সমালোচনা করবেন না। এটি আপনার পেশাদারিত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষা: অফিসের অভ্যন্তরীণ বা স্পর্শকাতর কোনো তথ্য অফিসের বাইরের কারো সঙ্গে আলোচনা করবেন না।

আরও পড়ুন: সফলতা নিয়ে ক্যাপশন ও উক্তি

ব্যক্তিগত ফোনে আসক্তি নয়: কাজের সময় বা অফিস চলাকালীন ব্যক্তিগত ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটাবেন না।

অভিযোগের অভ্যাস পরিহার: কাজ শুরু করার পরপরই সবকিছু নিয়ে অভিযোগের অভ্যাস করবেন না। আগে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন, পরে সে অনুযায়ী কথা বলুন।

360_F_1604319963_9JfETJrPLMLKq0DjwYdK8da1h0p2JLv1
সহকর্মীদের নিয়ে আড়ালে সমালোচনা করবেন না।

পারদর্শিতা প্রদর্শন: চাকরির শুরুতে সবার দৃষ্টি আপনার ওপরই থাকবে। তাই শুরু থেকেই অফিসের কাজগুলোতে আপনার পারদর্শিতা দেখান।

অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়া: নিজের গণ্ডি থেকে বের হয়ে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখান। নতুন নতুন কাজের অভিজ্ঞতা আপনার দক্ষতা আরও বাড়াবে।

কাজের প্রতি আগ্রহ: কর্মক্ষেত্রে একজন নতুন কর্মীর কাজের আগ্রহটা সবাই দেখতে চায়। শুধু কাজ করলেই হবে না বরং আগ্রহী হতে হবে।

পেশাদারিত্ব বজায় রাখা: এই নিয়মগুলো মেনে চললে কর্মক্ষেত্রে আপনি অন্যদের কাছে নির্ভরযোগ্য এবং পেশাদার কর্মী হিসেবে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাবেন।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে কর্মক্ষেত্রে আপনি অন্যদের কাছে নির্ভরযোগ্য এবং পেশাদার কর্মী হিসেবে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাবেন।

এএ/এজেড