বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন এমন পরিবারের সংখ্যা অনেক। সংসারের বাড়তি খরচ সামলানো, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য এখন আর একজনের আয়ের ওপর নির্ভর করলে চলে না। অনেক পরিবারেই স্বামী-স্ত্রী একই পেশায় যুক্ত। আবার অনেকে কাজ করেন একই কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর কি একই অফিসে কাজ করা উচিত? না কি এটি ব্যক্তিগত ও কর্মক্ষেত্রের জন্য খারাপ প্রভাব ফেলে?
স্বামী-স্ত্রীর একই অফিসে চাকরি করা উচিত কি না, এই বিষয়টি নির্ভর করে দম্পতির ব্যক্তিগত বোঝাপড়া, কোম্পানির নিয়ম এবং পেশাদারিত্বের ওপর। একসঙ্গে কাজ করার কিছু সুবিধা যেমন আছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই-
বিজ্ঞাপন

স্বামী-স্ত্রী এক অফিসে চাকরির সুবিধা
সহজ যাতায়াত ও সময় বাঁচানো:
দুজন একই অফিসে কাজ করলে যাতায়াত সহজ হয়। আবার একই কোম্পানির হওয়ায় ছুটির দিন মেলে। তাই অন্যান্য পরিকল্পনা করাও সহজ হয়। একসঙ্গে যাতায়াত করা গেলে খরচও কিছুটা কমে আসে।
বিজ্ঞাপন
কাজের পরিবেশ অনুকূল:
একই অফিসে সঙ্গী কাজ করলে মানসিক শান্তি লাগে। ফলে কর্ম পরিবেশ অনুকূল মনে হয়। কাজের চাপ, স্ট্রেস কিংবা অফিসের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে সরাসরি আলাপ করা যায়। একজন অন্যজনকে মানসিক সাপোর্ট দেওয়া সহজ হয়।

আর্থিক পরিকল্পনার সুবিধা:
একই প্রতিষ্ঠানে বোনাস বা ইনসেনটিভ পাওয়ার সময়গুলো একই হয়। ফলে আর্থিক পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হয়।
স্বামী-স্ত্রী এক অফিসে কাজের চ্যালেঞ্জসমূহ
কর্মক্ষেত্রে প্রভাব পড়া:
ব্যক্তিগত জীবনের কোনো রাগ বা সমস্যা অফিসে প্রভাব ফেলতে পারে। যা কর্মক্ষেত্রের জন্য নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। এজন্য অনেক অফিস স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে কাজের সুযোগ দিতে চান না।

চাকরির অনিশ্চয়তা:
বিশেষ করে বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা থেকেই যায়। কোম্পানি কোনো কারণে সংকটে পড়লে দুজনেরই চাকরি হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাধীনতার অভাব:
অফিসে সবসময় একসঙ্গে থাকলে নিজেদের জন্য আলাদা ‘স্পেস’ বা নিজস্ব বলয় তৈরি করা কঠিন হতে পারে। অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কও সঙ্গীর খারাপ লাগার কারণ হতে পারে। যা অফিস থেকে পৌঁছে যায় ব্যক্তিগত সম্পর্কে, দেখা দেয় টানাপোড়েন।

করণীয় কী?
কর্মক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করলে স্বামী-স্ত্রীকে অবশ্যই কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। কাজের জায়গায় নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে না দেখে সহকর্মী হিসেবে আচরণ করা উচিত। এছাড়া পার্সোনাল বা ব্যক্তিগত জীবন ও প্রফেশনাল বা পেশাগত জীবন সম্পূর্ণ আলাদা রাখা বাঞ্ছনীয়।
অনেক বিশেষজ্ঞ এবং কর্মজীবী দম্পতি মতে, নিজেদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকলে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা গেলেও একই বিভাগে বা একে অপরের সরাসরি বস (Supervisor) হিসেবে কাজ না করাই ভালো। সংসার আর কর্মক্ষেত্র দুটি আলাদা ক্ষেত্র। এদের আলাদা রাখাই শ্রেয়।
এনএম




