আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) রাশিয়া সফরকালে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া সাতটি শর্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কিংবা আলোচনায় বসার বিষয়ে ইরান সম্মত হবে না।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া আরও কয়েকটি শর্ত রয়েছে, যেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেননি ইরানি কর্মকর্তা।
অন্যদিকে দোহার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের একটি প্রস্তাব পাঠানোর পর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কাতারের আমিরের দফতর- আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প ও শেখ তামিম আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
কাতারের আমির আলোচনায় জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন কাতারের আমির।
প্রসঙ্গত, কাতার দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত ও কূটনৈতিক সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার সক্ষমতা এ ক্ষেত্রে দোহাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রয়োজনে দেশটির অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইরানের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যদি সম্ভব হয় তবে আমি দেশটির (ইরান) বাকি অংশ ধ্বংস না করতেই পছন্দ করব, তবে হয়তো আমাকে তা-ই করতে হতে পারে। আর আপনারা খুব শিগগিরই তা জানতে পারবেন’।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ আবার শুরু হলে আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া বলেছেন, ‘শত্রুপক্ষের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও অনেক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেসব ঘাঁটিতে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন আছে। যদি ফের ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা ঘটে, তাহলে বিশ্বজুড়ে তাদের সমস্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী।’
এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীরা দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর