যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সতুন করে উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের জীবন রক্ষা করবেন, সে বিষয়ে নাগরিকদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত প্রায় আট মিনিটের একটি ভিডিওতে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় এবং পরবর্তী সময়ে করণীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রথমে ভিডিওটি প্রকাশ করে। ইসফাহান প্রদেশের জরুরি সেবা বিভাগের উদ্যোগে তৈরি এই নির্দেশিকায় পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর ঝলকানি, বিস্ফোরণের তরঙ্গ, প্রচণ্ড তাপ এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার মতো পাঁচটি প্রধান বিপদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকানো যাবে না। কেউ খোলা জায়গায় থাকলে দ্রুত কোনো শক্ত স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। প্রাথমিক বিস্ফোরণের তরঙ্গ বা শকওয়েভ কেটে যাওয়ার পর নিকটবর্তী মজবুত ভবনে প্রবেশ করতে হবে।
🔴 Iranian state television and news agencies are broadcasting a video instructing citizens on how to respond in the event of a nuclear strike The instructions include: 🔴 Avoid looking directly at the intense flash of an explosion 🔴 If outdoors, take cover behind a barrier, lie flat and protect your head and face 🔴 After the blast wave passes, enter the nearest building. Do not remain outside to watch or take photographs, and do not shelter in a car 🔴 Move to a basement or the center of the building, away from windows and exterior walls 🔴 Close doors and windows and switch off air conditioning and ventilation systems drawing air from outside 🔴 Remove potentially contaminated outer clothing without shaking it, seal it in a bag and wash exposed skin with soap and water 🔴 Use bottled water and packaged food, and prepare to remain in shelter for at least 24 hours 🔴 Do not leave until authorities issue instructions on safe evacuation routes
— Al Arabiya English (@AlArabiya_Eng) November 3, 2026
ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসমেন্ট অথবা জানালা থেকে দূরে ভবনের মাঝামাঝি কোনো কক্ষকে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাইরে থেকে বাতাস টেনে নেয়—এমন শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বায়ু চলাচলের যন্ত্র বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা শরীরে লাগার আশঙ্কা থাকলে বাইরের পোশাক সাবধানে খুলে একটি ব্যাগে সিল করে রাখতে এবং সাবান ও কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীরের উন্মুক্ত অংশ পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। গোসলের সুযোগ না থাকলে পানি বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ, হাত ও শরীরের উন্মুক্ত অংশ পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ সময় শুধু বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টা পার হলেই বাইরে বের হওয়া নিরাপদ—এমন ধারণা করা যাবে না।
কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নিরাপদে বের হওয়ার নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। আশ্রয়স্থলে আগুন লাগলে বা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত অন্য নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও যোগাযোগব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অচল হয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জরুরি খবর জানতে ব্যাটারিচালিত রেডিও রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এই নির্দেশিকা প্রকাশের সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি ভূগর্ভস্থ একটি স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নিয়ে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় এই হামলার জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত দীর্ঘ এক পোস্টে কার্লসন দাবি করেন, হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হলো ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত পিক্যাক্স মাউন্টেন; যেখানে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা মনে করছে যে ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে।
কার্লসন বলেন, স্থাপনাটির ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত। ফলে প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা কঠিন। এ কারণে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
কার্লসন আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহু এ বিষয়ে ট্রাম্পের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, নেতানিয়াহু প্রতিদিনই ট্রাম্পকে ফোন করছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি তিনি।
এদিকে গত শনিবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের অবশিষ্ট এক বা দুটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হামলা চালাতে সক্ষম। এ সময় তিনি পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথাও উল্লেখ করেন। তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।
সূত্র: আল-আরাবিয়া, এনডিটিভি
এমএইচআর




