Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের মুখে ইরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম

দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়ে যায় সেখানে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা। এই পরিবর্তনে ফলে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হলেও দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে বাগদাদ।

বুধবারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরাক থেকে কয়েক শ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। তারা ২০১৫ সালে শুরু হওয়া আইএসআইএল (আইএসআইএস)বিরোধী জোটের অভিযানে পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই সেনাদের একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে। পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য ইরাকে আরও সেনা পাঠানো হয়।

ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে ২০২৪ সালে একটি সমঝোতা করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা ছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা কত, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি মার্কিন বাহিনী।

saddam
২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই করা হয়েছিল। তবে এটি ইরাকের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার তার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দেশটির সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে ইরানপন্থী কয়েকটি শক্তিশালী গোষ্ঠীও রয়েছে, যারা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে পুরো অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (ইউএনজিএ) বক্তব্য দেওয়ার সময় আলী আল-জায়েদি বলেন, তার সরকার ‘শান্তি ও যুদ্ধের বিষয়ে রাষ্ট্রকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং অস্ত্র ও ক্ষমতার উপকরণগুলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে রাখতে’ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইরাকে আন্তর্জাতিক জোটের মিশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। সামরিক সহযোগিতা থেকে এখন আমরা আমাদের অভিন্ন স্বার্থে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছি।’

ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ‘রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার’ কৌশলের অংশ হিসেবেই আল-জায়েদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ব্যবহার করছেন বলে মনে করেন ইরাক ও কুয়েতে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাস সিলিম্যান।

এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অস্ত্র ও আলাদা কমান্ড কাঠামো বজায় রাখার অন্যতম যুক্তি হিসেবে ইরাকের মাটিতে মার্কিন সেনা এবং তুরস্কের মতো অন্যান্য বিদেশি শক্তির উপস্থিতির কথা বলে আসছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা অস্ত্র হস্তান্তর করবে না।

সিলিম্যান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টতই ইরাকিদের কাছে এমন একটি রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরতে চাইছেন যে, যেসব গোষ্ঠী ইরানের প্রতি বেশি অনুগত এবং সরকারের অনুমোদন ছাড়া অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তাদের কাছে এখন আর সেই অস্ত্র রাখার রাজনৈতিক কারণ নেই।’

তবে এই উদ্যোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে ইরানে ইরাকের ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও ইরাকের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

সিলিম্যান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় হবে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য যেমন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদি ও তার প্রতিরক্ষা দলের জন্যও।’

নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার মুখে ইরাক

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ-উদ্বেগ দুটোই আছে। ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক উপস্থিতি শেষ হওয়ার পর ইরাক সরকার পরিস্থিতি কীভাবে সামলায়, তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায়।

২০১৭ সালে আইএসআইএলের দখল করা ভূখণ্ডের পরাজয়ের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও দেশটির চারপাশের সীমান্ত এলাকায় সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার শুরু করার পরও এই স্থিতিশীলতা মোটামুটি বজায় ছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনারা উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের এরবিলের একটি বিমানঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত হন।

তবে ইরাক সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করে রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে একীভূত করার বৃহত্তর উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু সুরক্ষাব্যবস্থাও নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এর অংশ হিসেবে সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাথমিক সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ২০২৭ সালের জুন করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে আল-জায়েদি বলেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ৯০ দিন পর্যন্ত কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাকে আশ্বাস দিয়েছে। স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতেই এমন সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Iraq-1
২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে মার্কিন সেনাদের একটি অংশ।

তবে চ্যাথাম হাউসের ইরাক ইনিশিয়েটিভের পরিচালক রেনাদ মানসুর বলেন, ইরানের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনো ‘পুরোদস্তুর যুদ্ধের প্রস্তুতিতে’ রয়েছে এবং তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে কাজ করছে। ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন স্বার্থে হামলা চালিয়ে যাবে।

মানসুরের মতে, আল-জায়েদি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বললেও সরকারের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ কেউ কেউ মনে করছেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের এত দিনের উপস্থিতি বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করেছিল।

তিনি বলেন, ‘ইরাক সরকারের এখন উদ্বেগ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আর ইরাককে প্রয়োজনীয় মনে করছে না। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ইরানঘনিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে ইরাককে বর্জনীয় দেশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে এবং তখন ইরাকও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।’

মানসুরের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আসতে পারে। পাশাপাশি ইরাকের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আরও বাড়তে পারে।

বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তার চিত্র

ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো ও ইরাকবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ সালিহও মনে করেন, ইরাক সরকারের কিছু অংশে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য ও জাতীয় ছুটির আয়োজনের তুলনায় উৎসাহ কম।

তার মতে, আঞ্চলিক অস্থিরতার সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই পরিবর্তন নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইএসআইএলের সক্রিয় সদস্যদের হুমকি, আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় সীমান্ত পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ।

সালিহ বলেন, ‘সরকারি বক্তব্যে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ইরাক মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। অর্থাৎ দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।’

তবে তিনি বলেন, ‘বাস্তবে ইরাকের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে যে, বড় কোনো আঞ্চলিক ঘটনা ঘটলে ইরাকই তার পরবর্তী মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইএসআইএলবিরোধী মিশন শেষ হওয়ার পর এর বাস্তব নিরাপত্তাগত প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সালিহের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দুই দেশ ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত কৌশলগত কাঠামো ও নিরাপত্তা চুক্তির দিকে ফিরে যাচ্ছে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের সময়ে করা ওই চুক্তিতে ইরাককে অব্যাহত নিরাপত্তা সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়।

ভবিষ্যতে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার ধরন কী হবে, সে বিষয়ে ইরাক সরকার বা পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়নি। বিশেষ করে আইএসআইএলের দখল করা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গোয়েন্দা ও সরবরাহ সহায়তা কীভাবে অব্যাহত থাকবে, তা পরিষ্কার নয়।

তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক দৃশ্যমান সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে।

ওই সূত্রের ভাষায়, এটি হবে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের একটি সময়ের জন্য তৈরি সম্পর্ককে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও প্রচলিত অংশীদারত্বে রূপান্তর করা যায় কি না, তার পরীক্ষা।’

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াই করা ইরাকের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অংশ হিসেবে লড়াই করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাগত প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত সিলিম্যান বলেন, ‘ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর বাস্তব সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেনাবাহিনীতে যাদের সঙ্গে আমি কথা বলি, তারা ইরাকের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অধিকাংশ হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী।’

তবে মে মাসে ইরাকের পার্লামেন্ট আংশিক মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট পদ এখনো পূরণ হয়নি।

ইরাক সরকারের নিজস্ব শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও নেই। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এটি বড় দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন সিলিম্যান।

Iraq-2
দুই দশক পর ইরাক থেকে পুরোপুরি চলে যায় মার্কিন বাহিনী।

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ইরাক দুর্বল থাকবে। কারণ ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকের ভেতরে ড্রোন, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে প্রস্তুত। আর এই মুহূর্তে ইরাকি সামরিক বাহিনীর এসব হামলা ঠেকানোর কার্যকর সক্ষমতা নেই।’

কুর্দি কর্মকর্তারা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচকদের মধ্যে রয়েছেন। তাদের মতে, চলতি বছর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে ইরান ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থার মাধ্যমে ঠেকানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনৈতিক স্থাপনা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে সীমিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাখতে পারে। তবে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এরবিল থেকে প্যাট্রিয়ট ও সি-র‍্যাম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি চলতি সপ্তাহে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘হুমকি বাস্তব-আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি, আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন কোনো উপযুক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই আমাদের একা ফেলে যাওয়া- এটা লজ্জাজনক।’ সূত্র: আল জাজিরা।

এমআর