দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরাকের তেল বিক্রির হাজার হাজার কোটি টাকা জমা হচ্ছে মার্কিন মুল্লুকের এক ব্যাংকে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া এই অদ্ভুত ব্যবস্থার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ওয়াশিংটনের হাতে। চাইলেও ইরাক রাতারাতি এই চক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। খবর মিডলইস্ট আইয়ের।
২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকের তেল সম্পদ যাতে আন্তর্জাতিক পাওনাদার বা অন্য কারও কবজায় চলে না যায়, সেজন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের নিয়মে ইরাকের তেল বিক্রির সব টাকা চলে যায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন এবং পুরোনো দেনার হাত থেকে সম্পদ রক্ষা করা।
কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, এই ব্যবস্থাটিই এখন ইরাকের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেহেতু ডলারে পরিশোধ করা হয় এবং ইরাককেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ডলারের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাই তারা চাইলেই অন্য কোথাও টাকা সরাতে পারে না।
তাছাড়া, সাদ্দাম আমলের কয়েক বিলিয়ন ডলারের পুরোনো ঋণ এখনো শোধ হয়নি। টাকা অন্য দেশে সরালেই তা বিদেশি পাওনাদারদের মামলার মুখে পড়তে পারে।
চলতি বছরের এপ্রিলেও ওয়াশিংটন হঠাৎ করেই ইরাকের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালান আটকে দিয়েছিল। তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশল নেয়।
বসরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ আহমেদ সাদ্দামের মতে, হুট করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
কারণ এতে পুরোনো ঋণদাতারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। তবে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, পুরোপুরি নির্ভরতা না কমিয়ে ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন কিছুটা ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই খবরদারিতে ইরাকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলেও সাধারণ মানুষের ভাবনা আবার অন্যরকম। বাগদাদ কিংবা বসরার সাধারণ নাগরিকদের আশঙ্কা, মার্কিন ব্যাংকগুলোর কড়া নজরদারি উঠে গেলে এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেশের দুর্নীতিবাজ নেতাদের পকেটে চলে যাবে।
তাই নিজেদের দেশের ব্যাংকগুলোর চেয়ে মার্কিন ব্যাংকেই টাকা নিরাপদে থাকুক এমনটাই চান অনেকে।
দিনশেষে, এই গোলকধাঁধা শুধু ডলারের হিসাব নয়, এটি হয়ে উঠেছে ইরাকের সার্বিক সার্বভৌমত্বের এক বড় পরীক্ষা।
-এমএমএস




