ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহেই ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।
ইরানের প্রতিবেশী দেশে দু’দশকেরও বেশি সময় পরে থাকবে না আর কোনো মার্কিন সেনাঘাঁটি। খবর রয়টার্সের।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানায় ওয়াশিংটন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তি করেছিল বাগদাদের সঙ্গে।
সেই চুক্তিরই এবার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার জানিয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনী আগামী বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলি থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরাক থেকে পেন্টাগনের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত তেহরানের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করবে বলেই সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
ঘটনাচক্রে, ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স’ (এমপিএফ) এবং ইরান সেনাবাহিনীর এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত কাতেইব হিজবুল্লাহ আগামী দিনে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে দাবি করা হয়েছিল।
দু’টি সংগঠনই ইরাক-কেন্দ্রিক। ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকায় এমপিএফ যথেষ্ট সক্রিয়।
ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স)-এর সদস্য ওই দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকের মাটিতে মসুল, কিরকুক, বডরা বা নাসিরিয়ার মতো মার্কিন সেনাঘাঁটিতে তারা হামলা চালাতে পারে বলে সম্প্রতি কয়েকটি রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আরও সক্রিয় হতে পারে ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি।
প্রসঙ্গত, সাদ্দাম হুসেন সরকারের পতন ঘটাতে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। সেই সময় থেকেই ইরাকের মাটিতে তাদের উপস্থিতি ছিল।
এর পর ধারাবাহিক ভাবে ইরাকে আল কায়েদা, আইএস এবং ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। দু’দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতপর্বে প্রায় ৪,৫০০ দখলদার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
-এমএমএস




