আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
২০২৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযানে জ্যাকোবাবাদের শাহবাজ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে একাধিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারত।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ মে জ্যাকোবাবাদের শাহবাজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান রাখার চারটি হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলা চালায় ভারতের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। এসব হ্যাঙ্গারে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহৃত এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি) প্ল্যাটফর্ম এবং ইউসিএভি রাখা ছিল।
হামলায় একাধিক এফ-১৬, এইডব্লিউঅ্যান্ডসি এবং বেশ কয়েকটি টিবি-২ ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এছাড়াও চাকলালা, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর, মুরিদ, সারগোদা, জ্যাকোবাবাদ এবং ভোলারিতে পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা রাডার, কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারত।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানি যুদ্ধ বিমান ধ্বংসের এই দাবি নতুন নয়। এর আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং দাবি করেছিলেন, ‘অপারেশন সিন্দুরে’ কমপক্ষে ছয়টি পাকিস্তানি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
এপি সিং বলেন, ‘আমাদের কাছে কমপক্ষে পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার নিশ্চিত খবর আছে। এরই সঙ্গে আমরা একটি বড় বিমান ধ্বংস করেছিলাম। সেটি হয় ইলিন্ট বিমান বা এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি) বিমান হতে পারে। বিমানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে, যা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে আঘাত হানে।’
তবে পাকিস্তানের এফ-১৬ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে ভারতের দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং পাকিস্তানও বিষয়টি স্বীকার করেনি।
এদিকে পাকিস্তানও বারবারই দাবি করেছে, সংঘাতে তারা ভারতের ৫টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি ফ্রান্সের তৈরি রাফাল, একটি রাশিয়ার তৈরি সু–৩০ ও অন্যটি মিগ–২৯ যুদ্ধবিমান। ভারত প্রথম দিকে এ বিষয়ে চুপ ছিলো। তবে সম্প্রতি ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদ এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও গত ৭ মে ভোরে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালায় ভারত।
ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’ পরিচালনা করে পাকিস্তান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে যায় দুই দেশ। তবে ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করে আসছে ভারত।
নয়াদিল্লির দাবি, যুদ্ধ বন্ধে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যেখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা ছিল না, এমনকি প্রাথমিক হামলার প্রায় ৮৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছিল পাকিস্তান।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমএইচআর