Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডে মদ খেয়ে ২ মার্কিন নাবিককের মারামারি, ফেরত পাঠানো হল জাহাজে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

দীর্ঘ ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর  প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনের বিশ্রামের জন্য থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে নোঙর করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। তবে তীরে পা রাখার পরই মারামারিতে জড়িয়েছেন জাহাজটির দুই নাবিক। মদ্যপ অবস্থায় হাতাহাতির ঘটনায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে রণতরীতে।

বৃহস্পতিবার ভোরে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ার নাইটলাইফ এলাকা ওয়াকিং স্ট্রিটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি বারে মদ কাওয়ার পর দুই মার্কিন নাবিকের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পাতায়া সিটি পুলিশের প্রধান কর্নেল আনেক শ্রাথংইউ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ওই দুই নাবিক মদ্যপ ছিলেন এবং উচ্চস্বরে ঝগড়া ও মারামারি করছিলেন। 

তবে ঘটনাটিকে ‘তুচ্ছ’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা মূলত পরিস্থিতি যেন আরও বড় আকার না নেয়, সে জন্য পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। 

পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর দুই নাবিককে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের যৌথ অপারেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। পরে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের আবার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফিরিয়ে নেয়। বাকি সময়ের জন্য তাদের জাহাজেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থাই আইনে কোনো মামলা হয়নি। 

পাতায়া পুলিশ জানিয়েছে, নাবিক দুজন এমন কোনো আইন ভঙ্গ করেননি, যার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ফলে তাদের ছেড়ে দিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। 

মার্কিন নাবিকদের এই আগমনকে ঘিরে পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তাদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে থাই ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুই নাবিকের এই ঘটনা সেই সতর্কতার গুরুত্বই আবার সামনে আনল।

থাইল্যান্ডে তাদের অবস্থান শেষ হবে ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর রণতরিটি আবার সমুদ্রযাত্রায় ফিরবে। ফলে দীর্ঘ ২৮৬ দিনের অভিযানের পর পাতায়ার এই স্বল্পমেয়াদি বিরতি তাই নাবিকদের জন্য শুধু বিনোদনের সুযোগ নয়—বরং বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক জীবনে সাময়িক ফেরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে মার্কিন সেনা ও নৌসদস্যদের সফরের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়- বিশেষ করে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে অবকাশ কাটাতে মার্কিন সেনাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠে পাতায়া। পরবর্তী সময়েও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে নিয়মিত যৌথ মহড়া ও নৌবাহিনীর সফর হয়েছে। 

এর আগে আর্বাহাম লিংকন ২০০৬ সালের এপ্রিলে থাইল্যান্ড সফর করেছিল। এছাড়াও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস কার্ল ভিনশন লায়েম চাবাং বন্দরে যায়। 

সূত্র: গালফ নিউজ

এমএইচআর