বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

থাইল্যান্ডে ভিড়ল মার্কিন রণতরী: নাবিকরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

থাইল্যান্ডে ভিড়ল মার্কিন রণতরী: নাবিকরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না
ছবি: এআই

টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর অবশেষে থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে নোঙর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। যুদ্ধজাহাজটিতে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পর পাঁচ দিনের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের থাইল্যান্ডে আনা হয়েছে।

রণতরীটির সঙ্গে আরও দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। নাবিকদের জন্য এই সফর দীর্ঘ সময় পর তীরে নামার সুযোগ হলেও থাই কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিশেষ করে পর্যটননগরী পাতায়ার বিতর্কিত নাইটলাইফ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড ঘিরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

যা করতে পারবেন নাবিকরা

নাবিক ও মেরিনরা তীরে নেমে পাতায়ার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, শপিং মল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বৈধ বিনোদনকেন্দ্রে যেতে পারবেন। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনসহ সাধারণ পর্যটন কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারবেন। 

স্থানীয় প্রশাসন মার্কিন নাবিকদের জাহাজ থেকে পাতায়ায় আনা-নেওয়ার জন্য প্রায় ৪০টি বাসের ব্যবস্থা করেছে। তারা বিভিন্ন দলে পাতায়ায় যাবেন এবং রণতরিটি থাইল্যান্ড ছাড়ার আগ পর্যন্ত এই পরিবহনব্যবস্থা চালু থাকবে।

পাতায়ার মেয়র পরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের সদস্যদের কার্যক্রমের ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা দিয়েছে। 

তবে শহরের ব্যবসায়ীরা নাবিকদের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা চলায় প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্যের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পোশাকের দোকান থেকে রেস্তোরাঁ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী বাড়তি ক্রেতার প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয় এক দর্জির দোকান মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের জন্য দ্রুত পোশাক সরবরাহের বিজ্ঞাপনও দিয়েছে।

এছড়াও পাতায়ার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও নাবিকদের যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য কিছু সময়সীমা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

যা করতে পারবেন না

নাবিকদের জেটস্কি বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জলক্রীড়ায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হলেও গাঁজা এবং অনান্য মাদক গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। 

স্থানীয় আইন ও সামরিক বিধি ভঙ্গ করে কোনো কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতে পারবেন না।

পাতায়ার বিখ্যাত ওয়াকিং স্ট্রিট ও যৌন ব্যবসা অধ্যুষিত এলাকা ঘিরেও বিশেষ নজরদারি রয়েছে। থাইল্যান্ডে যৌন ব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ হলেও পাতায়া দীর্ঘদিন ধরে যৌন পর্যটনের জন্য পরিচিত। 

মার্কিন সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে প্রকাশ্যে যৌনসেবার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে অর্ধশতাধিক যৌনকর্মীকে আটক করেছে।

প্রসঙ্গত, মার্কিন নৌবাহিনীর এই সফরের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাহাজটির দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা। ইউএসএস আব্রাহাম লিংক প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটিয়েছে—যা আধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ সময়। এই সময়ে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযান ও ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে নাবিকদের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ নিয়েও এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

থাইল্যান্ডে তাদের অবস্থান শেষ হবে ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর রণতরিটি আবার সমুদ্রযাত্রায় ফিরবে। দীর্ঘ ২৮৬ দিনের অভিযানের পর পাতায়ার এই স্বল্পমেয়াদি বিরতি তাই নাবিকদের জন্য শুধু বিনোদনের সুযোগ নয়—বরং বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক জীবনে সাময়িক ফেরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে মার্কিন সেনা ও নৌসদস্যদের সফরের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়- বিশেষ করে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে অবকাশ কাটাতে মার্কিন সেনাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠে পাতায়া। পরবর্তী সময়েও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে নিয়মিত যৌথ মহড়া ও নৌবাহিনীর সফর হয়েছে। 

এর আগে আর্বাহাম লিংকন ২০০৬ সালের এপ্রিলে থাইল্যান্ড সফর করেছিল। এছাড়াও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস কার্ল ভিনশন লায়েম চাবাং বন্দরে যায়। 

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর