আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ এএম
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালে একদিকে বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা, অন্যদিকে চলছে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শতাধিক শ্রমিককে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে এখনো অনেক শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে দেশটির সরকার।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর নিখোঁজ আছে তিন হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯০০-এর বেশি কর্মীও আছেন। সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
রাসুয়া জেলার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে শতাধিক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বেশ কিছু মানুষকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
শনিবার উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশের পথ তৈরিতে কাজ করেন। কোথাও কাদা সরিয়ে পথ তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও মাটি খনন করে ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। একটি সুড়ঙ্গে বাতাস প্রবেশ করানো এবং ক্যামেরা পাঠানোর কাজও শুরু হয়েছে, যাতে ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হেলিকপ্টার দিয়ে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং জীবিতদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্থলপথেও উদ্ধারকারীরা কাদা ও পাথরের স্তূপ পেরিয়ে কাজ করছেন।
শ্রমিকদের উদ্ধারে নেপালকে সহায়তা করছে প্রতিবেশী ভারত ও চীন। ভারত একটি বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। চীনও তিব্বত থেকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিব্বতে মারা গেছেন আরও ১৬ জন। দুই অঞ্চল মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯১ জনে। দুই অঞ্চলে নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। নেপালে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ত্রাণকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কারও হাতে প্রিয়জনের ছবি, কেউ খুঁজছেন নিখোঁজদের তালিকায় নাম। তাদের অনেকেরই আশা, ধ্বংসস্তূপ বা সুড়ঙ্গের কোথাও হয়তো এখনো জীবিত রয়েছেন তাদের স্বজন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া, কাদায় ভরা সুড়ঙ্গ এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল সরকার।
এমআর