নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষার শেষ নেই। কেউ হাসপাতালের তালিকায় প্রিয়জনের নাম খুঁজছেন, আবার কেউ ছুটছেন ত্রাণকেন্দ্রে। আবার কেউ নিখোঁজদের ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়।
নুয়াকোটের একটি ত্রাণকেন্দ্রের দেয়ালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেখানে দাঁড়িয়ে ছেলের নাম খুঁজছিলেন রাজেশ কুমার রাম। নামটি খুঁজতে খুঁজতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তবু আশা ছাড়েননি রাজেশ।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, হয়তো কোথাও আমার ছেলে বেঁচে আছে। হয়তো কোনো জায়গায় আটকে আছে, সেখান থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে। আমি শুধু সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় আছি।’
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯১ জনে। এখনো নিখোঁজ আছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরাও রয়েছেন।
নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হচ্ছে মানুষকে, আবার কোথাও উদ্ধারকারীরা কোমরসমান কাদা ও পাথরের স্তূপ পেরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন।
রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি, নাম ও যোগাযোগের নম্বর দিয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও। হাসপাতালের সাহায্যকেন্দ্রগুলোতে আহত ও নিখোঁজদের তালিকা ঘেঁটে পরিচিত মুখ খুঁজছেন তারা।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হাজারো মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের উৎকণ্ঠা কাটছে না।
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে। সেখানে শতাধিক শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে নেপাল সরকার। তাদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গে জমে থাকা কাদা সরানো, বাতাস প্রবেশ করানো হচ্ছে। ক্যামেরা পাঠানোরও কাজ চলছে। ভারত ও চীনের বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দলও অভিযানে যোগ দিয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের এমন অবস্থার মধ্যেই বিপর্যস্ত দেশটিতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিমবাহধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে আবার পানি নেমে আসার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
এমআর




