images

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে সংঘাত ‘শেষ’ দাবি ট্রাম্পের, কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ মে ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত ‘শেষ হয়েছে’ বলে কংগ্রেসকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের নির্ধারিত সময়সীমা তিনি মানতে বাধ্য নন। ট্রাম্পের এমন দাবিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা আছে, কোনো প্রেসিডেন্ট যদি সামরিক অভিযান শুরু করেন, তবে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। অন্যথায় তাকে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

তবে কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সেই সময়সীমার ‘ঘড়ি থেমে গেছে’, তাই তিনি ওই আইনি বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য নন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি হয়নি।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইসলামাবাদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

শুক্রবার কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানানোর ৬০তম দিনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো গোলাগুলি হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘর্ষ এখন শেষ হয়েছে।’

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে কথা বলেছি। দেখা যাক কী হয়। তবে আমি সন্তুষ্ট নই।’ তিনি আরো বলেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্ব ‘বিশৃঙ্খল অবস্থায়’ রয়েছে, যা চুক্তি কঠিন করে তুলছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাকে দুটি বিকল্প দিয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। একটি ‘পুরোপুরি ধ্বংস করা’, অন্যটি ‘সমঝোতায় পৌঁছানো’।

iran_war_20260326_175453039
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা আমাদের প্রত্যাশিত চুক্তির দিকে এগোচ্ছে না। আমরা বিষয়টি ঠিকভাবে শেষ করব, মাঝপথে ছেড়ে দেব না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের ‘টোল’ দিলে তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে।

কংগ্রেসে এ নিয়ে চাপ বাড়ছে-যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ভোট হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলিশন’ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়, নতুবা সেনা প্রত্যাহার করতে হয় (বিশেষ ক্ষেত্রে আরও ৩০ দিনের সময় পাওয়া যেতে পারে)।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির কারণে সময়সীমা থেমে গেছে। তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইনি এ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আইন এ ধরনের ব্যাখ্যা সমর্থন করে না।’

বিশেষজ্ঞরাও ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক হেদার ব্র্যান্ডন-স্মিথ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমাপ্তি নয়। স্থায়ীভাবে সংঘাত শেষ হলেই ৬০ দিনের হিসাব বন্ধ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে তা থামানোর একমাত্র পথ হতে পারে আদালত বা কংগ্রেস।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা চালায়।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—যদিও ইরান তা অস্বীকার করে আসছে। সূত্র: বিবিসি।

এমআর