শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইরান ইস্যুতে বিরোধ: জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

শেয়ার করুন:

ইরান ইস্যুতে বিরোধ: জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা সরাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার পেন্টাগন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জার্মান নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


কয়েকদিন আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিব্রত’ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘এমন অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই প্রেসিডেন্ট যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে পারে। জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একই ধরনের তথ্য দিয়েছে সিবিএস নিউজও।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে তারা যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছে না। কম সমর্থন দেওয়া দেশগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে গত বুধবার ইঙ্গিত দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পলিটিকো জানায়, ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের এমন সিদ্ধান্ত সামরিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। কয়েকজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও কংগ্রেসের এক সহকারীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


গত বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎসকে আক্রমণ করে বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়া উচিত তার। বরং তিনি ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করার’ প্রচেষ্টায় হস্তক্ষেপ করছেন।

ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠাতে অনাগ্রহী। যদিও শুরুতে মের্ৎসসহ কিছু নেতা প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে দ্বিধায় ছিলেন যে হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করায় সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে।

এ প্রসঙ্গে মের্ৎস বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। এর খরচ আমাদের অনেক বেশি বহন করতে হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাত সরাসরি আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।’ সূত্র: আল জাজিরা।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর