images

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে নতুন হুমকি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষ্যাপাটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, ‘ইরান যদি এবারের ‘অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তসঙ্গত চুক্তি’ গ্রহণ না করে, তাহলে আর ‘ভদ্রলোক’ থাকব না।’

মার্কিন নৌ অবরোধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা করায় দেশটির প্রতিটি সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টের মাধ্যমে এই হুমকি দেন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আবারও বৈঠকে বসার কথা। সে লক্ষ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা দুটি বিমানে করে এরইমধ্যে পাকিস্তানে রওনা হয়েছেন। তারই মাঝে ট্রাম্পের এই হুমকি। 
 
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালীতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন! এর মধ্যে একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি, তাই না? আমার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন আলোচনার জন্য, তারা আগামীকাল সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।’ 

তিনি লেখেন, ইরান সম্প্রতি প্রণালিটি (হরমুজ) বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমাদের অবরোধের কারণে এটি ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। তারা না জেনেই আমাদের সাহায্য করছে এবং এই নৌপথ বন্ধ থাকায় তাদেরই ক্ষতি হচ্ছে, প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতিই হচ্ছে না।’
 
অনেক জাহাজ এখন মালামাল বোঝাই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুইজিয়ানা এবং আলাস্কার দিকে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত একটি প্রস্তাব দিচ্ছি এবং আমি আশা করি তারা (ইরান) তা গ্রহণ করবে। যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। আর কোনো ভদ্রতা নয়! তাদের পতন হবে দ্রুত, সহজভাবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা এই চুক্তি গ্রহণ না করে, তবে যা করা দরকার তা করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের হবে, যা গত ৪৭ বছর ধরে অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের ইরানের প্রতি করা উচিত ছিল। ইরানের এই হত্যাযন্ত্রের (কিলিং মেশিন) অবসান ঘটানোর সময় এসেছে!’
 
আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি সত্ত্বেও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি এখনো ‘অনেক দূরে’ রয়েছে বলে ইরানের সংসদ স্পিকার ইঙ্গিত দেওয়ায় কৌশলগত হরমুজ প্রণালী রোববারও বন্ধ ছিল। 
 
পাকিস্তানে সম্প্রতি উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার মধ্যেই তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথটি পুনরায় খুলতে দেবে না।

এদিকে সরকারি অনুমতি ছাড়া বা নৌবাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানি বাহিনী ‘লক্ষ্যবস্তু’ করবে বলে সতর্ক করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
 
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে ইরানের সার্বভৌমত্বের অংশ উল্লেখ করে আইআরজিসি নৌবাহিনীর একজন কমান্ডার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব হবে ‘কঠোর ও তাৎক্ষণিক’, যা ওয়াশিংটনের চিন্তার বাইরে।
 
ওই নৌ কমান্ডার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে, ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করার তার পূর্ববর্তী হুমকির গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
 তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি তার হুমকি নিয়ে সিরিয়াস হন, তবে তিনি কেন শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছেন না? সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে মার্কিন নৌবাহিনীর অনাগ্রহ ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের কার্যকারিতাই প্রমাণ করে।
 
পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসব মন্তব্য এলো, যেখানে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বাহ্যিক চাপের জবাবে হরমুজ প্রণালিকে একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহারের ইচ্ছার কথা বারবার জানিয়ে আসছে।

ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে আইআরজিসি। রোববার (১৯ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানায়। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ হামলা চালাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে হামলাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান। বন্ধ করে দিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিও।

এক মাসেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই যুদ্ধবিরতিকে আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর জন্য ফের পাকিস্তানে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র।

এএইচ