আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
পবিত্র রমজান মাসে দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, এই দুই ইসলামিক দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বা ‘সরাসরি যুদ্ধ’ কারো স্বার্থের পক্ষেই ভালো নয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বার্তায় আনোয়ার ইব্রাহিম উল্লেখ করেছেন, ‘উভয় পক্ষের প্রাণহানি গভীর শোকের কারণ। রমজান মাসে এই যে সহিংসতা ঘটছে, তা পরিস্থিতিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে’।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘মালয়েশিয়া চায় পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান দুই দেশই ‘সর্বোচ্চ স্তরের আত্মনিয়ন্ত্রণ দেখাক এবং অবিলম্বে সমস্ত সামরিক অভিযান বন্ধ করুক’।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বৈধ এবং অবশ্যই তার সমাধান করতে হবে। আফগানিস্তানের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকেও সম্মান করতে হবে। এই দুই নীতি একে অপরের বিরোধী নয়। এগুলো কেবল আলোচনার টেবিলেই একমাত্র এর সমাধান করা যেতে পারে’।
অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই সংঘাতে সমস্ত বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রার্থনা করছি এবং আশা করছি যে উভয় পক্ষই শান্তি বেছে নেবে এবং নিজেদের সাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ব্যবহার করবে’।
এরআগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় হামলা চালায় আফগানিস্তান। তালেবান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গত সপ্তাহে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবে সীমান্তের পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আজ শুক্রবারও হামলা অব্যাহত আছে। উভয় দেশই সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।
এরপরই জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান। এ অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক। এছাড়া আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের একটি বড় ডিপোও ইতোমধ্যে ধ্বংস করা করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এদিকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ, চীন, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর