আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা- ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) ।
বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি ও আইআরজিসির এয়ারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভির উপস্থিতিতে ঘাঁটিটি উন্মোচন করা হয়।
এসময় ঘাঁটিতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি কৌশলগত এই ইউনিটের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্রিফ করা হয়।
ঘাঁটি পরিদর্শনকালে আইআরজিসির সক্ষমতা ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বলেন, ‘প্রযুক্তিগত সব দিক উন্নত করার মাধ্যমে ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শক্তিশালী করেছে, যা দেশের প্রতিরোধক্ষমতা আরো বাড়িয়েছে। শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের জন্য আমরা প্রস্তুত।’
আবদোলরহিম মুসাভি আরও বলেন, ‘গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে আমরা আমাদের রণকৌশল পরিবর্তন করেছি। আমরা এখন প্রতিরক্ষামূলক থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছি। যার ভিত্তিতে দ্রুত সময়ে এবং বৃহৎ পরিসরে অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি অনুসরণ করছি। একইসঙ্গে অসম যুদ্ধ এবং প্রতিপক্ষের সামরিক কৌশলকে চূর্ণ করার কৌশল অবলম্বন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক সেই সময়েই এই ঘোষণা এলো। ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইরানের আশপাশের অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং এরমধ্যে দুই দেশ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শঙ্কা করা হচ্ছে যদি আলোচনায় কোনো সমাধান না আসে তাহলে ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সাগরের পানির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র টানেলের একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছে ইরান। সমুদ্রের তলদেশে এই টানেলে শত শত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ করে রেখেছে দেশটি।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, টানেলের ভেতেরে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এসময় তাংসিরি দাবি করেন, আইআরজিসি নৌবাহিনীর সমুদ্রের তলদেশে ক্ষেপণাস্ত্র টানেলের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে মোতায়েন শত্রু যুদ্ধজাহাজের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, টানেলগুলোতে শত শত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি (প্রায় ৬২১ মাইল)। এরমধ্যে অন্যতম হলো- আইআরজিসি নৌবাহিনীর নির্মিত ‘কাদের ৩৮০ এল’ ক্ষেপণাস্ত্র। এটিতে স্মার্ট গাইডেন্স রয়েছে, যা আঘাত না করা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসির এই নৌ কমান্ডার আরও বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে, ইরানি বাহিনী যেকোনো স্তরে এবং যেকোরো অবস্থান থেকে হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে’।
সূত্র: ফার্স নিউজ
এমএইচআর