শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হল ১০০০ কৌশলগত ড্রোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হল ১০০০ কৌশলগত ড্রোন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো এক হাজার অত্যাধুনিক ড্রোনের বিশাল বহর।

বৃহস্পতিবার ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ বলছে, ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামির জারি করা আদেশে সেনাবাহিনীর চারটি শাখার অপারেশনাল ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির জন্য নতুন ড্রোনগুলো যুক্ত করা হয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত হুমকি এবং শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা ড্রোনগুলো তৈরি করেছেন। মনুষবিহীন এরিয়াল ভেহিকেলগুলো (ইউএভিএস) ড্রোনগুলো বিশেষ মিশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার আক্রমণের শক্তিকেও শক্তিশালী করবে।

এ বিষয়ে মেজর জেনারেল হাতামি বলেছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সেনাবাহিনীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ড্রোনের এই নতুন বহর যুক্ত করা হয়েছে।

কমান্ডার হাতামি আরও উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল দ্রুত যুদ্ধ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং যেকোনো আগ্রাসনের প্রতি কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রদান করা।

ইরানি সেনাবাহিনীতে এই ড্রোনের বিশাল বহর এমন এক সময় যুক্ত করা হলো- যখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে আরও একটি বিশাল নৌবহর আসছে জানিয়ে ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানকে শিগগিরই একটি পারমানবিক চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যে হামলা হয়েছিল, এবার তার চেয়েও ভয়াবহ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশাল এক যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্দান্ত শক্তি, উৎসাহ এবং উদ্দেশ্য নিয়ে এটি বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এর আগে ভেনেজুয়েলায় যে বাহিনী পাঠানো হয়েছিল, বিশাল রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে থাকা এই বহরটি তার চেয়েও বড় এবং ভেনেজুয়েলার মতো অভিযানের জন্য প্রস্তুত। যা প্রয়োজন পড়লে অনেক দ্রুত এবং ভয়াবহ হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তিতে রাজি হবে। তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না, যা সকল পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক।’

ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে, এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ! আমি ইরানকে আগেও বলেছি, একটা সমাধানে আসুন। তারা শোনেনি বলেই গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ হয়েছিল, যা ইরানের জন্য একটি বড় ধ্বংসযজ্ঞ ছিল। পরের বার হামলা হলে এটি আরও ভয়াবহ হবে! তেমন পরিস্থিতি ডেকে আনবেন না। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!’

ইতোমধ্যেই ইরানের আরও কাছে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ। 

মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মার্কিন বিমান বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু-দিনের প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যায়। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।’

এরআগে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার মধ্যেই একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে দেশটিতে ব্যাপক হামালার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জন্য প্রয়োজনীয় সামারিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়িয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।


সূত্র: তাসনিম নিউজ

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর