Dhaka Mail Logo

হেলথ

নার্সরা হাসপাতালের প্রাণ, হাসিমুখে সেবা দেওয়ার তাগিদ বিএমইউ উপাচার্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বিএসসি ইন নার্সিং ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্যাপিং সেরিমনি এবং এমএসসি ইন নার্সিং ৪র্থ ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, নার্সরা হাসপাতালের প্রাণ। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা ও হাসিমুখে সেবার মাধ্যমে এই প্রাণস্পন্দন অটুট রাখতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শপথ গ্রহণ, থিম সং এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, নার্সিং বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পেশা। বিএসসি ইন নার্সিংয়ের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যে শপথ নিয়েছেন, তা যেন তারা অন্তর থেকে ধারণ করেন এবং পেশাগত জীবনে বাস্তবায়ন করেন।

উপাচার্য বলেন, ‘নার্সরা রোগীদের আশ্রয়ের স্থল। রোগীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, তাদের সুখ-দুঃখের অনুভূতি ভাগাভাগি করে সেবা দেওয়াই একজন নার্সের প্রকৃত দায়িত্ব। রোগীদের সেবায় কোনো ধরনের স্থবিরতা আসা উচিত নয়।’ 

উপাচার্য আরও বলেন, বিএমইউর নার্সরা দেশের জন্য রোল মডেল হবেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দক্ষতা ও মানবিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, এটাই প্রত্যাশা।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ক্যাপ একজন নার্সের দায়িত্ববোধ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। সঠিক সময়ে দক্ষ নার্সিং সেবা দিয়ে বহু মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। মানবসেবাই সবচেয়ে বড় ইবাদত এবং নার্সিং পেশায় এই কথার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।

উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নার্সিং একটি উচ্চ মর্যাদার পেশা এবং রোগীর সুস্থতায় নার্সরা অনিবার্য অংশীদার। তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসন মেধার ভিত্তিতে ৩২ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৫১৬ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের গ্রেডিং সমস্যারও সমাধান করেছে। 

 

 

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, 'সেবাই আমাদের ধর্ম, সেবাই আমাদের কর্ম', এই আদর্শ ধারণ করলে রোগীদের নার্সিং সেবা নিয়ে যে কোনো অসন্তোষ দূর করা সম্ভব।

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কালাম বলেন, নার্সিং সেবা ছাড়া আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। রোগীর পাশে সার্বক্ষণিক থাকেন নার্সরাই। উন্নত নার্সিং সেবার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে।

প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ বলেন, রোগীদের সবচেয়ে অসহায় সময়ে নার্সরাই তাদের পাশে থাকেন। দক্ষতা, সততা, মেধা ও মানবিকতার সমন্বয়ে নার্সিং সেবাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন বিএমইউর নার্সদের দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নার্সিং শিক্ষা ও সেবার উন্নয়নে কাজ করে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন খান বলেন, দেশে নার্সিং শিক্ষার মান উন্নয়নে বিএমইউ নিরলসভাবে কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি, এমএসসি ও পিএইচডি পর্যায়ে নার্সিং শিক্ষা চালু রয়েছে। দেশের চাহিদা বিবেচনায় উচ্চতর নার্সিং শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েট নার্সিং বিভাগের শিক্ষক, সেবা তত্ত্বাবধায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/ক.ম