নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ধুমপায়ীর সংখ্যা। ফলে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে- সরাসরিই নয় পরোক্ষভাবেও ধুমপানের শিকার হচ্ছেন অনেকে। এরমধ্যে রাজধানীর ঢাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী পরোক্ষ ধুমপানের শিকার।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের লালা পরীক্ষা করে ৯২ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীর লালায় নিকোটিন পাওয়া গেছে। ১৫ বছরের নিচে প্রায় ৬১ হাজারের বেশি শিশু পরোক্ষ ধুমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছে।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে তামাকের মাধ্যমে ধুমপানজনিত রোগ বছরে দুই লক্ষ মানুষ মৃত্যুরবণ করে, যা দেশের মৃত্যুর ১৮ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ তামাকজনিত রোগে ভুগছে।
বাংলাদেশ মাদকাসক্তি পুর্নবাসন কেন্দ্রের এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সেমিনারে জানানো হয়, ৯৫ শতাংশ মাদকসেবী প্রথমে বিড়ি সিগারেট সেবন করেছে এবং ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারুজ্জামান।
এছাড়াও সেমিনারে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম এ সোবহান উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু। নিবন্ধ উপস্থাপনা করেন সংস্থাটির প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব।
সেমিনারের নিবন্ধে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ, শিশু পার্কের সীমানার মিটারের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ‘স্মোকিং জোন’ রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে। তামাকপণ্যের সকল ধরনের বিজ্ঞাপন/প্রচার/প্রচারমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; পয়েন্ট-অফ-সেল-এ প্রদর্শনও নিষিদ্ধ। ই-সিগারেট, ভ্যাপসহ সকল ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট উৎপাদন, আমদানী, রপ্তানি, সংরক্ষন, বিজ্ঞাপন, বিপনন, বিতরন, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাকপণ্যের প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কতাবাদী অন্যূন ৫০% থেকে বাড়িয়ে অন্যূন ৭৫% করা হয়েছে। আইন ভঙ্গে জরিমানা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেমন- পাবলিক প্লেস বা পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ধুমপান করলে জরিমান ৩০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা করা হয়েছে।
এসএইচ/এএম