বিনোদন ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
সাফল্য পেয়েও বলিউডের চাকচিক্য এড়িয়ে চলতেন নানা পাটেকর। সাদামাটা জীবনযাপনে করতেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ। তাই বলেও গল্পটা মোটেই সরলরৈখিক না অভিনেতার। বরং বলা যায় সিনেমার চেয়েও বৈচিত্র্যময় ছিল নানার জীবন। ৭৫০ টাকায় বিয়ে করেছিলেন প্রেমিকাকে। যদিও সম্পর্ক টেকেনি। কিন্তু সাড়ে তিন দশকের আলাদাবাসে ডিভোর্স দেননি স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকরকে। নাম জড়িয়েছিল মণীষা কৈরালার সঙ্গে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানার অভিনয়ের শুরুটা থিয়েটারের মাধ্যমে। নীলকান্তিও থিয়েটার করতেন। আলাপ থেকে প্রেমের সূত্রপাত সেখানেই। নীলকান্তি আড়াই হাজার রুপির ব্যাংক কর্মকর্তা হলেও আর্থিক অবস্থা সুবিধার ছিল না নানার। একটি শো করে পেতেন ৫০ রুপি। তাই বিয়েটা জাকজমক করে সারতে পারেননি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ৭৫০ রুপি। যা তার ১৫টি শোয়ের পারিশ্রমিকের সমান।

বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে বাবা-মা হন নানা-নীলকান্তি। ঘরে আসে পুত্রসন্তান দুর্বাস। সে সুখ ভাগ্যে সহি নানার। মাত্র আড়াই বছরে ছেলে তার না ফেরার দেশে চলে যায়। হারানোর শোকে সান্ত্বনার প্রলেপ ছিল দ্বিতীয় ছেলে মলহার পাটেকরের জন্ম।
তারপরও জনা তিনেক মানুষের এক ছাদের নিচে থাকা হয়নি। কেননা সময় গড়াতে নীলকান্তির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় নানার। এক সময় আলাদা হয়ে যান দুজন। তবুও যেন এক অদৃশ্য সুতায় বাঁধা ছিলেন মানুষ দুটো। সেজন্য-ই হয়তো ডিভোর্স দেননি কেউ কাউকে। সেইসঙ্গে কখনও স্ত্রীকে অবমূল্যায়ন করেননি অভিনেতা। নিজের জীবনে নীলকান্তির অবদানের কথা স্বীকার করেছেন সবসময়।

দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন নানা। পেটের দায়ে ১৩ বছর বয়সে স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন। খ্যাতি তার দিন ফেরালেও নামের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিল কিছু গুঞ্জন। এরমধ্যে অন্যতম মণীষা কৈরালা। নব্বইয়ের দশকে তাদের নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। নীলকান্তির সঙ্গে নানার দূরত্বের কারণ হিসেবেও অনেকে দায়ী করেন মনীষাকে। আজ মৃত্যুর পর ফের অভিনেতার জীবন নিয়ে চর্চা চলছে। যদিও সেসবের উর্ধে এখন নানা। আলোচনা-সমালোচনা ছাপিয়ে দিয়েছেন চিরঘুম।
আরআর