বিনোদন ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ এএম
আজ বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। চলচ্চিত্রে নাম লেখানোর প্রায় দুই দশক পর ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটেছিল। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন নানা পাটেকর। সেই ছবিতে একজন ভারতীয় সেনা অফিসারের চরিত্রে নিখুঁতভাবে অভিনয় করার জন্য মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি সেন্টারে দীর্ঘ তিন বছর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ৩ বছরের প্রশিক্ষণের শেষে ১৯৯০ সালে তাঁকে ভারতীয় টেরিটোরিয়াল আর্মিতে সম্মানসূচক ক্যাপ্টেন পদ প্রদান করা হয়।

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হলে নানা পাটেকর যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথমে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা অনুমতি দিতে না চাইলে, তিনি তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় স্তরে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অনুমতি চান। পরবর্তীতে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে তিনি নিয়ন্ত্রণরেখার
সেনাবাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই বছরের ২৬ জুলাই যুদ্ধ শেষ হলেও, আগস্ট মাসে প্রায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। সেখানে তিনি কোনো সরাসরি লড়াইয়ে অংশ না নিলেও বেস হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এবং কুইক রেসপন্স টিমের সঙ্গে লজিস্টিকস ও অপারেশনের কাজে যুক্ত ছিলেন। জানা যায়, শ্রীনগরে পৌঁছানোর সময় তাঁর ওজন ছিল ৭৬ কেজি। যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার সময় তাঁর ওজন কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫৬ কেজি।

টেরিটোরিয়াল আর্মিতে থেকে ২০১৩ সালে অবসর নেনে। ওই একই বছরে তিনি দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পান। এছাড়া তাঁকে সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে ভূষিত হন।
১৯৭৮ সালে মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে রূপোলি পর্দায় পা রেখেছিলেন নানা পাটেকর। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘অঙ্গার’, ‘অপহরণ’, ‘খামোশি দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো চলচ্চিত্র। তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। এছাড়া চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ঘরে তুলেছেন। শিল্প সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত করা হয়।