Dhaka Mail Logo

বিনোদন

আমি সমাজ বদলাতে আসিনি, মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছি: জেমস

বিনোদন ডেস্ক

০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

ঝাকড়া চুলের বাবরি দোলানো গানের পুরুষ মাহফুজ আনাম জেমস। দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের রকস্টার। ভালোবেসে অনুরাগীরা তাকে ‘গুরু’ বলে ডাকেন। উপমহাদেশজুড়ে অসংখ্য ভক্ত তার। আজ জীবনের ৬১ বসন্ত পেরিয়ে ৬২ বছরে পা দিয়েছেন।

নিজের জন্মদিন ঘটা করে উদযাপন করেন না বাংলা রক ঘরানার ‘গুরু’ মাহফুজ আনাম জেমস। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের পূর্বাচলের একটি ক্লাবে বিশেষ দিন উপলক্ষে নিরিবিলি সময় কাটিয়েছেন ‘নগর বাউল’। সেখানে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

সংগীত জগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও জেমস মনে করেন নতুন প্রজন্মের প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। 

জেমসের মতে, ‘এ পর্যন্ত যত গান তৈরি হয়েছে, যদি নতুন কোনো গান নাও তৈরি হয়, তবুও মানুষ আগামী ২০ বছর অনায়াসেই সেগুলো শুনতে পারবে। আর এখন যেহেতু গান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে চলে গেছে, তাই এটি খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। যা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, মানুষের তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। মানুষের এখন পুরো একটি ট্র্যাক শোনারও আর ধৈর্য নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবর্তন মেনে নিতে হবে—এআই এখন নিজেই কোড লিখছে, ফলে আলাদা কোডারদের প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে। কিন্তু কোনো শিল্পরূপ বিলুপ্তির পথে থাকলেও তা প্রায়শই ভালোবাসা ও আবেগের কারণেই টিকে থাকে।’

আবেগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যা-ই করা হোক না কেন, তা পুরোপুরি আবেগ ও ভালোবাসা থেকেই করতে হবে। লাভের কথা ভেবে গান তৈরি করা যায় না। যদি প্রাকৃতিকভাবে কিছু আসে, তবে তা ভালো, কিন্তু আপনি যদি লাভের আশা নিয়ে কোনো শিল্পকলা শুরু করেন, তবে আপনাকে হতাশ হতে হবে।’

বর্তমান প্রজন্মের সংগীতশিল্পীরা প্রতিভাবান ও অনুরাগী বলে মনে করেন জেমস। তাঁর ভাষ্য, ‘এখন তো এআই-এর যুগ। তরুণ সংগীতশিল্পীরা যদি সুন্দর কাজ তৈরির জন্য এআই বা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, তবে অবশ্যই তা করা উচিত। ভালো কোনো নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে কোনো দোষ নেই’

জেমস বলেন, ‘গান তৈরি হয় মানুষের শোনার ও গাওয়ার জন্য। মানুষ যেখানে খুশি—বাজারে কিংবা নদীর ঘাটে—গান গাইবে। কারোই এতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। সংস্কৃতি নদীর মতো—একে তার নিজস্ব গতিতে বইতে দেওয়া উচিত।’

কেউ যদি সমাজের অনিয়ম, অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলতে চান, অবশ্যই বলতে পারেন। তবে সেটি হতে হবে তাঁর নিজের সচেতনতা থেকে। এ প্রসঙ্গে গায়ক বলেন, ‘আমি একজন বিনোদনকর্মী; আমি সমাজ বদলাতে আসিনি। আমি মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছি।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সবার জন্য ভালো করার মতো এমন বড় বড় চিন্তা করার চেয়ে, যদি প্রত্যেকে নিজের ও নিজের আশপাশের মানুষের ভালো করার চেষ্টা করে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সমাজের কল্যাণ হবে।’

ইএইচ/