জেমসে শুধু শ্রোতারা-ই মজেন না। বুঁদ হন শিল্পীরা। মাথা নোয়ান অন্য দেশের রকস্টাররাও। পশ্চিমবঙ্গের রূপম ইসলাম তার প্রমাণ। গুরুর সাক্ষাৎ পেয়েই পা ছুঁয়ে সম্মান প্রদর্শন করলেন ওপারের জনপ্রিয় ব্যান্ড ফসিলসের লিড ম্যান।
জেমস-রূপমের দেখা অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। সেখানে একমঞ্চে গান করবেন তারা। আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর কনসার্ট। সেই সূত্রে বহু বছর পর সাক্ষাৎ দুজনের। দেখা হতেই জমেছে আড্ডা। ধারণ করা হয়েছে ভিডিও-ও। এরইমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তা।
ভিডিওতে দেখা গেছে, নগর বাউলকে দেখেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন রূপম। মহাগুরু আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জেমস ভাই, আপনার পাশে এসে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে একসঙ্গে কনসার্ট করা— সবটুকুই আমার জন্য একদম অন্যরকম এক অনুভূতি।’ সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে ভোলেন না, সুরের দাপটে বাংলা ভাষাভাষীদের জেমস বেঁধে রেখেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
২০০৭ সালের ‘ঢাকা রক ফেস্ট’-এ জেমসের সঙ্গে দেখা হয়েছিল রূপমের। দুই দশক পর ফের কাছে পেয়ে শিশুর মতো উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন রূপম। একটি প্রতিশ্রুতিও মনে করিয়ে দেন। জানান, গুরু তাকে বলেছিলেন ঢাকায় গেলে নিজের গাড়িতে ঘুরিয়ে শহর দেখাবেন। যা অধরা-ই থেকে গেছে। জেমসও কথা বরখেলাপের দায় নিতে চাননি। আশ্বাস দেন, ঢাকার জন্য অপেক্ষা জমাতে হবে না। এবার সময় আছে, সিডনির বুকেই ঘোরা হবে।
এদিকে দুই বাংলা জানে হাসতে জানেন না জেমস। প্রচলিত সে ধারণা নিয়েও রসিকতা করতে ছাড়েননি রূপম। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত ধারণা যে ‘মহাগুরু’ সহজে হাসেন না। অথচ আজ আমাকে দেখে তার হাসি থামতেই চাইছে না— এটাও তো একটা রেকর্ড!”
রূপম-জেমসের জমজমাট আড্ডার শেষটা ছিল মন ছুঁয়ে দেওয়ার মতো। বিদায় নিতে গিয়ে মাথা ঝুঁকে যায় মিস্টার ফসিলসের। হাত ছুঁয়ে যায় নগরবাউলের পা। জেমসও দেরি করেননি। আশীর্বাদ চাওয়া রূপমকে বুকে টেনে নেন পরম স্নেহে। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডলে রূপম যেন তার উত্তর দিয়েছেন ভালোবাসায়। জেমসের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘জয় রক এবং জয় গুরু!’
আরআর




