বিনোদন ডেস্ক
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গতকাল নিজেদের দাম্পত্য জীবনের দুই দশক পূর্ণ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও চিকিৎসক শান্তা চৌধুরী। বিশেষ দিনটি উদ্যাপন করতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন এই তারকা। সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে তাঁদের ভালোবাসার গল্প ভাগ করে নেন তিনি।
বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে একটি অপরিচিত ফোন কল থেকে তাঁদের পরিচয় ঘটে। ফোনের ওপার থেকে এক তরুণী জানিয়েছিলেন তাঁর অভিনয় ভালো লাগে। চঞ্চল লেখেন, “বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে হঠাৎ একটা মেয়ে ফোন করে বলল, ‘আপনার অভিনয় আমার ভাল্লাগে’। যদিও সে বলেনি, তবে আমার মনে হয়েছিল শুধু অভিনয় নয়, আমাকেও মনে হয় তার ভালো লাগে। ওই বিশ্বাস নিয়েই মনে হয় মোবাইল ফোনে মাসখানেক কথাবার্তা। তারপর সামনাসামনি দেখা না করেই ফোনে কথা দেওয়া যে, সে রাজি থাকলে আমরা বিয়ে করতে পারি।”

সেই সময় অভিনেতার পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জানান, বাবা-মা ও ভাই-বোনের কাছে তিনি এক প্রকার পুত্রদায়গ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্তে পুরো পরিবার আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিল। তবে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুটা জটিলতা ছিল। তাঁদের পরিবারের কেউ কেউ এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিলেন। আবার কেউ ছিলেন প্রায় রাজি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। প্রথম দফায় আইনিভাবে, দ্বিতীয় দফায় ধর্মীয় অনুশাসন মেনে বিয়ে সম্পন্ন করেন।
হাজারো অভিযোগ মাথায় নিয়ে কীভাবে ২০ বছর কেটে গেল, তা নিজেই বিশ্বাস করতে পারেন না অভিনেতা। পোস্টে চঞ্চল লিখেছেন, ‘কখনও ভাবিনি আমার মতো একজন বাউন্ডেলের সঙ্গে ভদ্রমহিলা এতদিন সংসার করবে। টিকে থাকার প্রধান কারণ আমাদের মাঝখানে আমাদের একমাত্র সন্তান শুদ্ধ।’ নিজের জীবনে খুব বেশি প্রত্যাশা না থাকলেও ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য প্রার্থনা চেয়েছেন।
সবশেষ চঞ্চল লেখেন, ‘আমার জন্য কম প্রার্থনা করলেও, বউ-ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমরা ভালো আছি। আমি ভালোবাসি আমার ঘর, ভালোবাসি দেশ।’
চঞ্চলকে সবশেষ বড়পর্দায় দেখে যায়, গেল কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায়। এদিকে ২৮ আগস্ট কিংবদন্তিতুল্য নির্মাতা মৃণাল সেনের জীবন ও কর্ম অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘পদাতিক’ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভে মুক্তি পাচ্ছে । মৃণাল সেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল।
ইএইচ/