দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। দীর্ঘ তিন দশক ধরে নাটক, সিনেমা আর ওয়েব সিরিজে মাতিয়ে রাখছেন দর্শকদের। অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও সিদ্ধহস্ত। বেশ কিছু একক গানে কণ্ঠ দিলেও ভক্তদের দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল সিনেমায় প্লেব্যাক। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটছে। এবার নিজের অভিনীত সিনেমায় দুইটি গানে কণ্ঠ দিচ্ছেন এই অভিনেতা। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সিনেমার প্লেব্যাকে পাওয়া যাবে চঞ্চলকে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দ্রবময়ীর কাশীবাস’ ও ‘দাদু’ ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ‘শেকড়’ সিনেমা। এই সিনেমার দুটি গান গেয়েছেন চঞ্চল। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি জানিয়েছে ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন।
বিজ্ঞাপন
স্টুডিওতে সংগীত পরিচালক প্রবুদ্ধ ব্যানার্জির সঙ্গে চঞ্চল চৌধুরীর রিহার্সেলের দুটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ‘শেকড় হলো ব্রাত্য বসুর চিরন্তন একটি প্রেমের সিনেমা। এখন পুরোদমে চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। এ সিনেমায় প্রবুদ্ধ ব্যানার্জির সংগীতায়োজনে চঞ্চল চৌধুরী একাধিক গান রেকর্ড করেছেন। এই সিনেমা দিয়ে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে টালিউডে অভিষেক হচ্ছে চঞ্চলের।’

গান প্রসঙ্গে চঞ্চল গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেকড়’ সিনেমার জন্য বিজয় সরকারের ‘এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনি ঠিক রবে’ এবং গোষ্ঠ গোপাল দাসের ‘ও জীবন রে ছাড়িয়া না যাও মোরে’ গান দুইটি নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছেন। জনপ্রিয় গান দুটি সিনেমায় ব্যবহারের আইডিয়া নির্মাতাকে চঞ্চল নিজেই দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
চঞ্চলের কথায়, ‘গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গান দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। যখন শুটিং করছিলাম, তখনই মনে হয়েছিল এখানে গান থাকলে ভালো হয়। পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এখানও কোনো গান ব্যবহৃত হবে কি না। পরিচালক সম্মতি দিলে তাঁকে দুটি গান সাজেস্ট করি। তিনি দুটি গানই রাখার ব্যাপারে মত দেন। সঙ্গে শর্ত দেন, গান দুটি আমাকেই গাইতে হবে। পরে ডাবিং শেষ হওয়ার পর গান দুটিতে কণ্ঠ দিই।’

এই সিনেমায় চঞ্চলের চরিত্রের নাম ইন্দ্র, যে কারখানায় কাজ করে। তার বাবা স্মৃতিভ্রংশের অসুখে ভুগছে। চঞ্চল চৌধুরীর বাবাও মৃত্যুর আগে এমন সমস্যায় ভুগেছেন। এ কারণে ‘শেকড়’ সিনেমায় কাজ করতে আকৃষ্ট হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন অভিনেতা।
ব্রাত্য বসু পরিচালিত সিনেমায় চঞ্চল ছাড়াও এতে আরও অভিনয় করেছেন লোকনাথ দে, সীমা বিশ্বাস, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেন, অঙ্গনা রায়, অনসূয়া মজুমদার প্রমুখ। চলতি বছরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
ইএইচ/

