বিনোদন প্রতিবেদক
২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
বিনোদনের অঙ্গনের যে কয়জন অভিনয়শিল্পী মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ‘নায়করাজ’ রাজ্জাক। আর এ কারণেই জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছিলেন ‘নায়করাজ’ উপাধি। আজ ২১ আগস্ট অভিনেতার নবম মৃত্যুবার্ষিকী।
‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমায় রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ডলি জহুর। এই সিনেমার কাহিনি দর্শকদের চোখে পানি ঝরিয়েছিল। সহশিল্পী হিসেবে রাজ্জাক কেমন ছিলেন—জানতে চাইলে ঢাকা মেইলকে ডলি বলেন, ‘সহশিল্পী হিসেবে উনি দারুণ আন্তরিক ছিলেন। উনি যা জানেন, তা আমাদের শেখাতেন। সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতেন। উনি ভীষণ সময়সচেতন মানুষ ছিলেন। সেটে অহেতুক বসে থেকে কষ্ট করা উনি একদম পছন্দ করতেন না।’
ক্যারিয়ারের হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমায় রাজ্জাকের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ডলি। অভিনয়শিল্পী থেকে সিনেমা পরিচালনা— সবখানে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। রাজ্জাকের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে ডলি বলেন, ‘ওনাকে আমি বয়সকালে পেয়েছি— শিল্পী এবং পরিচালক হিসেবে। আমার পর্যবেক্ষণ বলে, একজন সাধারণ পরিচালকের চেয়ে একজন অভিনয়শিল্পী যখন পরিচালক হন, তখন সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনেক নিখুঁতভাবে বোঝেন। রাজ্জাক ভাই ঠিক তেমনই ছিলেন। কাজের খুঁটিনাটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতেন। পাশাপাশি খুব যত্ন নিয়ে আমাদের দিয়ে অভিনয় করিয়ে নিতেন।’
শুটিং সেটে বেশ কড়াকড়ি ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা। তবে খাওয়ার টেবিলে বসলে সবার সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠতেন। অভিনেত্রী বললেন, “কাজের ব্যাপারে উনি খুব নিয়ম মেনে চলতেন। সন্ধ্যার মধ্যে শুটিং শেষ করতেন। রাতে কাজ করতেন না। বলতেন, ‘তোমরা রাতে একটু রেস্ট নাও।’ সকালে একদম ভোরবেলা সবাইকে উঠিয়ে দেওয়া হতো। সকাল ছয়টার মধ্যে সবাইকে মেকআপ নিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে হতো। তবে সেটে নিয়ম যত কড়া থাকুক না কেন, খাওয়ার টেবিলে আমরা সবাই একসঙ্গে বসে খেতাম। সেখানে দারুণ আনন্দ হতো, আমরা খুব এনজয় করতাম।”
‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমার একটি মজার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ডলি জহুর বলেন, “একবার উনার ‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমার ডাবিংয়ের জন্য তিন দিন সময় রাখা হয়েছিল। সকালে শুটিং শুরু করে সহকারী পরিচালকদের হাতে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে উনি কোনো কাজে বাইরে যান। যখন ফিরে এলেন, ততক্ষণে আমার পুরো ডাবিং শেষ হয়ে গেছে। তিন দিনের কাজ একদিনেই শেষ হয়ে গেছে শুনে উনি ভীষণ খুশি হন। কাজের ক্ষেত্রে উনি আমার ওপর সত্যিই খুব সন্তুষ্ট ছিলেন।”
সবশেষে তিনি বলেন, “উনি সিনিয়রদের সঙ্গে বসতে পছন্দ করতেন। সে সময়ে ফেরদৌস, কাজল, পূর্ণিমারা শুটিংয়ে আড্ডা দিত, হইচই করত। আমি গিয়ে ওদের সাথে হাসাহাসি করলে রাজ্জাক ভাই রসিকতা করে বলতেন, ‘শিং ভেঙে বাছুরের দলে ভিড়তে যেও না তো!’ উনি মজা করেই সিনিয়রদের গাম্ভীর্য বজায় রাখার উপদেশ দিতেন। আমাদের আন্তরিকতা দেখে মনে মনে উনিও ভীষণ খুশি হতেন।”
ইএইচ/