শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্মরণে নায়করাজ

শুটিংয়ে রাজ্জাক ভাই সবাইকে নিয়ে পাটি বিছিয়ে বসে ভাত খেতেন: নূতন

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০১ এএম

শেয়ার করুন:

শুটিংয়ে রাজ্জাক ভাই সবাইকে নিয়ে পাটি বিছিয়ে বসে ভাত খেতেন: নূতন

নায়কের প্রয়াণে স্তব্ধ হয় রাজপথ, থেমে যায় সেলুলয়েডের রঙিন মায়াজাল। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া পদচিহ্ন চিরঞ্জীব হয়ে থাকে কোটি দর্শকের হৃদয়ে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ‘নায়করাজ’ রাজ্জাককে হারানোর দীর্ঘ ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি আজও অম্লান সহকর্মী ও অভিনেত্রী নূতনের মনে। পর্দায় তারকা জুটির রসায়ন আজও নস্টালজিক করে তোলে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।

শুরুতেই নায়করাজকে ‘মহানায়ক’ সম্বোধন করে নূতন বলেন, ‘আমাদের দেশে মহানায়ক বলে কেউ থাকলে তিনি নায়করাজ রাজ্জাক। কয়েক মিনিটে ওনাকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না।’

শুটিংয়ের ফাঁকে আড্ডা হতো। সেসময় নায়কঅরাজ শোনাতেন তার শুরুর দিকের সংগ্রামের গল্প। আজও মনে আছে ‘পাগলা রাজা’র নায়িকার। বললেন, ‘শুরুর দিকে অনেক স্ট্রাগল করেছেন রাজ্জাক ভাই। আমরা শুটিংয়ের সময় একসঙ্গে বসে কথা বলতাম। তখন তিনি শেয়ার করতেন।’

সহকর্মীর পাশাপাশি রাজ্জাকের ভক্তও ছিলেন নূতন। তার ছবি দেখেই পেয়েছিলেন অভিনয়ের অনুপ্রেরণা। এরকম উল্লেখ করে বলেন, “ওনার অভিনয় দেখে ঠিক থাকতে পারতাম না। চোখে পানি চলে আসত। ‘নীল আকাশের নিচে’ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ‘নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তায় চলেছি একা’ গানটি দেখে মাথায় ঢুকেছিল আমিও এরকম ছবিতে অভিনয় করব। পরে অনেক সিনেমায় স্ক্রিন শেয়ার করেছি। ওনার প্রযোজনা ও পরিচালনায়ও কাজ করেছি।”

নায়করাজের গুণমুগ্ধ এ অভিনেত্রীর কথায়, ‘রাজ্জাক সাহেব একজন বড় মনের মানুষ ছিলেন। ওনার মতো ভালো মানুষ কম দেখেছি। সৌখিন ছিলেন। মাছ ধরতেন, শিকার করতেন। রান্নাও করতে পারতেন। সব গুণে গুণান্বিত ছিলেন। এরমধ্যে অন্যতম ছিল, শুটিংয়ে খাওয়ার সময় কাউকে দূরে রাখতেন না। পাটি বিছিয়ে সবাইকে নিয়ে খেতে বসতেন। শিল্পী, ক্যামেরাম্যান লাইটম্যান— কেউ বাদ যেত না।’

নূতন মনে করেন ঢালিউডের এ প্রবাদ পুরুষ ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। তার থেকে শেখার ছিল পরবর্তী প্রজন্মের। তার কথায়, ‘আমরা রাজ্জাক ভাইয়ের অভিনয় দেখে শিখতাম। কীভাবে ডায়লগ ডেলিভারি দেন, এক্সপ্রশন দেন— দেখতাম। কান্নার দৃশ্যে উনি কখনও গ্লিসারিন ব্যবহার করতেন না। তার চোখের পানি ছিল অরিজিনাল। ওনার থেকে শিক্ষা নেওয়াটা অনেকের জরুরি ছিল। নায়ক মান্না তাকে অনুসরণ করতেন। আমাকে বলতেন, আমি কিন্তু রাজ্জাক সাহেবকে ফলো করি। ওনার অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করে।’

রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যের সঙ্গে হৃদ্যতা ছিল নূতনের। নায়করাজের বাড়িতেও ছিল অবাধ যাতায়াত। যোগ দিতেন পারিবারিক বনভোজনেও। সেরকম একটি শোনালেন নায়িকা। বললেন, ‘ওনার বাড়িতে আমরা সবসময় যাতায়াত করতাম। তার পরিবারের সঙ্গে হৃদ্যতা ছিল। উনি বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমাকে ডাকতেন। একবার ফোন করে বললেন বাবুলকে (অভিনেত্রীর স্বামী প্রযোজক রুহুল আমিন বাবুল) নিয়ে বাসায় চলে এসো। যাওয়ার পর বললেন, আমরা শালবন যাব পিকনিকে। আমরাও গেলাম। উনিই রান্না করলেন। একেকজনকে একেক কাজ দিলেন। আমাকে বললেন পেঁয়াজ কাটতে। আমাদের শাস্তি দিচ্ছিলেন আরকি। আমি বললাম, রাজ্জাক ভাই আমি পেঁয়াজ কাটতে পারি না। বাবুলকে জিজ্ঞেস করে দেখেন। ভাই বললেন কাটতে হবে। এই জিনিসগুলো উনি চলে যাওয়ার পর আর কারও কাছ থেকে পাইনি।’

আরআর/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর