Dhaka Mail Logo

বিনোদন

আমরা ছিলাম ভাই-বন্ধুর মতো: খুরশীদ আলম 

বিনোদন প্রতিবেদক

২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাট নায়করাজ রাজ্জাক। তাঁর অভিনয় যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি তাঁর অভিনীত সিনেমার গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। অভিনেতার অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম। রাজ্জাকের প্রয়াণদিনে তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতির ঝাঁপি খুলেছেন এই গায়ক। 

কষ্ট করেই কেষ্ট মিলেছে নায়ক রাজ্জাকের। শরণার্থী হয়ে এদেশে এসেছিলেন। পরে ঘাম ঝরিয়ে হয়ে ওঠেন এদেশের চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ। নায়করাজকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শুরুতেই বিষয়টি তুললেন খুরশীদ আলম। বললেন,  ‘নায়ক রাজ্জাক ওপার থেকে এসে যেভাবে এখানে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন তা কল্পনাতীত। স্ত্রীসহ আসার পর কষ্ট করেছেন, লেগে ছিলেন। উনি যেটা করতেন সেটা সততার সঙ্গে করতেন। দৃঢ়প্রত্য্য়ী ছিলেন। তার ক্যারিয়ারের পেছনে সবচেয়ে অবদান রয়েছে চলচ্চিত্রের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আব্দুল জব্বার খান, জহির রায়হান সাহেবের।  জহির রায়হান নিজের বেহুলা ছবিতে ওনাকে প্রথম ব্রেক দেন। পরে তিনি আস্তে আস্তে নিজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ’

মানুষকে আপন করে নেওয়ার বিরল গুণ ছিল রাজ্জাকের মাঝে। সিকিভাগ শঠতা ছিল না তাতে। উল্লেখ করে রাজ্জাকের গূণমুগ্ধ এ গায়ক বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেবের বড় গুণ ছিল উনি সবাইকে খুব আপন করে নিতে পারতেন। সেখানে কোনো ছলচাতুরি ছিল না। উনি খুব আমুদে মানুষ ছিলেন। নিজের বাসায় সবাইকে দাওয়াত করে খাওয়াতে ভালোবাসতেন। সিনেমার নায়ক-নায়িকা, পরিচালক, গীতিকার, সুরকার— সবাইকে দাওয়াত দিতেন। ওনার বাড়িও ছিল দেখার মতো। ওই সময় গুলশানে সুইমিং পুলুওয়ালা বাসা। সরকারি আমলারাও যেতেন সে দাওয়াতে। সবাইকে এক হাতে সামলাতেন ওনার স্ত্রী লক্ষী ভাবি।’ 

সিনেমার গানে খুরশীদ আলমের পথচলা শুরু রাজ্জাক অভিনীত ‘আগন্তুক-এর মাধ্যমে। পরে নায়করাজের ঠোঁটে গায়কের অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা পায়। দর্শক চাহিদা বিবেচনায় অভিনেতার সিনেমায় খুরশীদ আলমের গান হয়ে ওঠে আবশ্যক। দীর্ঘ পথচলায় দুজনের মধ্যে সম্পর্কও ছিল দারুণ। গায়ক বলেন, ‘আমরা ছিলাম ভাই-বন্ধুর মতো। জোকার সিনেমায় ওনার বন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বলেছিলেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি। কেননা আমার মনে হয়েছিল ক্যামেরার সামনে যে এক্সপ্রেশন দরকার সেটা আমার দ্বারা সম্ভব না। কিন্তু উনি নাছোড়বান্দা ছিলেন। পরে বলেছিলাম, ভাই শেষে আমার আম-ছালা দুটোই যাবে। উনি আর জোড় করেননি। বুঝেছিলেন বিষয়টি।’

আরআর/