শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্মরণে নায়করাজ

রাজ্জাক সাহেবকে অনুরোধ করব কি না— তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম: সোহেল রানা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

শেয়ার করুন:

রাজ্জাক সাহেবকে অনুরোধ করব কি না— তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম: সোহেল রানা

বাংলা চলচ্চিত্রকে যদি রাজ্য ধরা হয়, তাহলে সেই রাজ্যের রাজা ছিলেন নায়ক রাজ্জাক। আর এ কারণেই জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছিলেন ‘নায়করাজ’ উপাধি। আজ ২১ আগস্ট কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর ৯ বছর। নায়করাজের প্রয়াণদিনে তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতির ঝাঁপি খুলেছেন রূপালী পর্দার অভিনেতা ও পরিচালক সোহেল রানা। 

সিনেমার জন্য নায়করাজ  নিজেকে উৎসর্গ করেছেন বলে মনে করেন সোহেল রানা। তিনি বলেন,  ‘বাংলা চলচ্চিত্র যখন একেবারে প্রাথম দিকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলছিল তখন রাজ্জাক সাহেব তাঁর পুরো জীবনকে উৎসর্গ করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রকে এক সোনালী যুগে পৌঁছে দিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র জগতের প্রতি তাঁর যে ডেডিকেশন ও দায়িত্ববোধ— এক কথায় অতুলনীয়। সিনেমার প্রতি নিষ্ঠার দিক থেকে তাঁর সঙ্গে তুলনা করার মতো কাউকে খুঁজে পাই না।’

সহশিল্পী হিসেবে রাজ্জাকের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে সোহেল রানা জানান, তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও জুনিয়রদের সঙ্গে কাজের সময় তিনি কখনও তা বুঝতে দিতেন না। বরং একজন অভিভাবকের মতো জুনিয়রদের দিকনির্দেশনা দিতেন। হাতে ধরে অভিনয় শিখিয়ে দিতেন।

নিজের প্রথম পরিচালিত ছবি ‘মাসুদ রানা’-এর একটি স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমার ছবিতে তাঁকে (রাজ্জাক সাহেবকে) প্রতিবেশী হিসেবে কেবল একটি গান গেয়ে দেওয়ার অনুরোধ করব কি না— তা নিয়ে বেশ দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ভালো হওয়ায় হঠাৎ বলেই ফেললাম। শুনে তিনি বললেন, ‘আমি তো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভীষণ ব্যস্ত। তুমি কি রাত ১০টার পর শুটিং করতে পারবে?’ আমি জানালাম, ‘আপনি সময় দিলে অবশ্যই পারব।’ তিনি জানতে চাইলেন কতক্ষণ লাগবে? আমি বললাম—‘মাত্র এক ঘণ্টা।’ তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। তাঁর মতো এত বড় মাপের একজন অভিনয়শিল্পী যে একজন নতুন পরিচালকের ছবিতে মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের একটা অতিথি চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হয়ে গেলেন, তা দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম। তাঁর এই উদারতার জন্য তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।” 

তৎকালীন সহশিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা জানান, তখনকার সময় সহশিল্পীদের মধ্যে কাজের জায়গায় ব্যাপক প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হলেই সবাই এক হয়ে যেতেন। মনে হতো এক পরিবারের সদস্য। তবে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জায়গা থেকে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার জন্য তাঁরা একে অপরকে সাহেব বলে সম্বোধন করতেন। 

অভিনেতার ভাষ্য, ‘কাজ করতে গিয়ে দুজন দুজনের খুব প্রিয়জনের মতো হয়ে গেলাম। উনি আমাকে নাম ধরে ডাকতেন না। মাসুদ পারভেজ সাহেব বলে ডাকতেন। আবার আমিও ওনাকে রাজ্জাক সাহেব বলে ডাকতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মানুষ জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে সকাল থেকে শুরু করে রাত অবধি কাজ করে গেছেন। এমনকি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চলচ্চিত্রের কথা ভেবেছে। সেভাবেই কাজ করে গেছেন। রাজ্জাকের মতো একজন শিল্পীকে পেয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগত অতীতেও গর্বিত ছিল। আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

ইএইচ/

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর